আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ এপ্রিল- ‘জুলাই আদেশ’কে আইনি ভিত্তিহীন এবং সংবিধানের ওপর প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটি মূলত একটি ‘কালারেবল লেজিসলেশন’, যার মাধ্যমে সংবিধানে অর্পিত নয় এমন ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানই দেশের মূল ভিত্তি এবং এই সার্বভৌম সংসদকে কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে বাধ্য করা যাবে না।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা ১৯৭২ সালের সংবিধান মানেন না বলে দাবি করছেন, তারাই আবার ওই সংবিধানের অধীনেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আদেশের ১২ ধারাতেই বলা আছে জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা। এর অর্থ হলো, ৭২-এর সংবিধানই সবকিছুর ভিত্তি। সেই সংবিধানকে সামনে রেখেই যেকোনো সংশোধনী আনা সম্ভব।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই সনদে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সেই সনদের নির্দেশনা মেনে চলেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সনদের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার বিধান বিএনপি অনুসরণ করেছে। কিন্তু বিরোধীরা মুখে সনদের কথা বললেও বাস্তবে তা মানেনি। এমনকি ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে আসাদুজ্জামান বলেন, সামরিক শাসনের সময় তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। আর ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, যার ফলে আজ সংসদে মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেমন কিছু ব্যক্তির কাছে জাতি ঋণী, তেমনি জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া শহীদ ও আহতদের প্রতিও দেশের দায় রয়েছে।
‘জুলাই আদেশ’কে আইন হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো আদেশ কার্যকর হতে হলে তার আইনি ভিত্তি থাকতে হয়। কিন্তু এই আদেশের ক্ষেত্রে তা নেই। বরং সংবিধানে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, সেই ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে, ফলে এই আদেশ কার্যত অকার্যকর।
বক্তব্যের শেষদিকে আইনমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের পক্ষে মত দেন। বিরোধী দলের ৫০-৫০ প্রতিনিধিত্বের দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে। ২১৯ জন সদস্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ৭৭ জন সদস্যের প্রতিনিধিদের সমান অংশ দেওয়া যৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হলে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জুলাই সনদের আলোকে এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।