ঢাকায় চালু হচ্ছে পরীক্ষামূলক ‘ফুয়েল পাস’
মেলবোর্ন, ২ এপ্রিল- জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই পাস…
মেলবোর্ন, ১ এপ্রিল- অ্যাডলফ হিটলারকে ‘ইহুদিদের জন্য ঈশ্বরীয় শাস্তি’ হিসেবে প্রশংসা করায় বাংলাদেশের মৌলবাদী ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অনলাইনে আজহারির ১০ মিলিয়ন অনুসারী রয়েছে। তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোরে প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত ধর্মীয় বক্তৃতা করেন। অ্যাডলফ হিটলারকে নিয়ে আজহারির মন্তব্য ডেইলি মেইল প্রথম প্রকাশ করেছিল।
আজহারি ‘লেগ্যাসি অফ ফেইথ’ সিরিজের অংশ হিসেবে ইস্টারের সময় অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় বক্তৃতা দিতে দেশটিতে যান।
অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মিজানুর রহমান আজহারি। ছবি: সংগৃহীত
এর আগে আজহারিকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে তাকে বক্তৃতা দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি উগ্র হিংসাত্মক ও সাম্প্রদায়িক বক্তৃতা দিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ান।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সেনেটর জোনাথান ডুনিয়াম বলেন, ‘সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা এবং সংসদ সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছিল আজহারির আগমনের বিষয়ে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় সংস্থাগুলি আমাদেরকে এ নিয়ে বার্তা দিয়েছিল।’

আজহারির সফর শুরু হয় ব্রিসবেন থেকে। ছবি: সংগৃহীত
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তৃতায় আজহারি অ্যান্টি সেমিটিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করতে দেখা যায়। সেসময় তিনি ইহুদি হত্যার জন্য হিটলারের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ইহুদি এবং তাদের ধর্মকে অবমাননা করেন।
ওই বক্তব্যে ইহুদিদের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানিয়ে এই উগ্র বক্তা বলেন, ‘ইহুদিরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী। তারা মানব জাতির বিষাক্ত কলঙ্ক। ইহুদিরা এইডসসহ বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী।’
গতকাল সোমবার রাত থেকে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে শুরু হয় আজহারির সফর। এরপর মেলবোর্নে ৩ এপ্রিল, সিডনিতে ৪ এপ্রিল এবং ক্যানবেরায় ৬ এপ্রিল তার বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল।
ডুনিয়াম বলেন, “আজহারিকে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশের অনুমতি দেওয়া গভীরভাবে উদ্বেগজনক। কারণ তার আন্তর্জাতিক রেকর্ড স্পষ্টভাবে উগ্রবাদ ও ঘৃণা ছড়ানোর প্রমাণ বহন করে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যে ২০২১ সালে হিন্দুবিরোধী বক্তব্যের কারণে তার প্রবেশ বাতিল করা হয়েছিল। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষও উগ্রবাদ ও জনশান্তি বিঘ্নিত করার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল।
ডুনিয়ামের মতে, ‘আজহারির বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সীমাবদ্ধ নয়। তার বক্তৃতায় ইহুদিবিরোধী, হিন্দুবিরোধী বক্তব্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির অবমাননার প্রমাণ।’

ছবি: সংগৃহীত
একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত সব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া সরকার আজহারির দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো সপ্তাহের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়।
তারা সরকারকে সতর্ক করে বলেছিল, আজহারির বক্তৃতা ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে এবং উগ্রবাদকে বৈধতা দিতে পারে।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, আজহারির এই সফরের আয়োজন করে ইসলামিক প্র্যাকটিস ও দাওয়াহ সার্কেল। এ বিষয়ে কথা বলতে সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ডেইলি মেইল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au