৫৬ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব, উদ্বিগ্নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি বা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হওয়াই দেশের বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- দুর্গাপূজায় অন্তত তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। তিনি জানান, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা, উদ্বেগ এবং দীর্ঘদিনের দাবিগুলো তুলে ধরতেই এই সাক্ষাৎ করা হয়।
তিনি বলেন, বৈঠকটি ছিল সৌজন্যমূলক হলেও আলোচনায় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে সব কথা শুনেছেন এবং ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সন্তোষ শর্মা জানান, বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে যে দাবি তোলা হয়েছে, তা হলো দুর্গাপূজায় অন্তত তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা। বর্তমান ছুটির সময়সীমা হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে পূজা উদযাপন পরিষদ এই সময় বাড়ানোর দাবি জানায়।
এর পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, দেশে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রয়োজন।
বৈঠকে অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রণয়ন এবং দেবোত্তর সম্পত্তি আইন কার্যকর করার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব সম্পত্তি সুরক্ষা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য স্পষ্ট আইনি কাঠামো জরুরি।
এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে একটি পূর্ণাঙ্গ ফাউন্ডেশনে রূপান্তর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে করে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করা যায়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু বিষয়ক একটি পৃথক মন্ত্রণালয় এবং একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিও জানানো হয়।
জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় বৈঠকে। এ প্রসঙ্গে সন্তোষ শর্মা একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, তাদের সম্প্রদায় থেকে বিজন কান্তি সরকারকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা একটি ‘সুখবর’ হিসেবে দেখছেন তারা।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
পাশাপাশি রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয় বৈঠকে।
সন্তোষ শর্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সব দাবি শুনেছেন এবং এগুলো বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই ইতিবাচক মনোভাবের ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠককে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবি ও অধিকার নিয়ে সরকারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au