মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চাপে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে অ্যান্থনি আলবানিজ সরকারের সংস্কার এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে ভবিষ্যতের জ্বালানি পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে সরকার ও বিরোধীদের অবস্থানকে অনেকেই বাস্তববাদ বনাম জনপ্রিয়তাবাদের লড়াই হিসেবে দেখছেন। বিরোধী শিবিরের অ্যাঙ্গাস টেইলর ও ম্যাট ক্যানাভান জ্বালানির ওপর শুল্ক কমানোর দাবি তুললেও অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ এ নীতিকে দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর বলে মনে করছেন।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনপ্রিয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত সরকারও জ্বালানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়। একই সময়ে পার্লামেন্টের আকার বাড়ানোর একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছিলেন বিশেষ রাষ্ট্রমন্ত্রী ডন ফ্যারেল। এ বিষয়ে ডেভিড লিটলপ্রাউড-এর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পার্টি সমর্থন দিলেও লিবারেলরা ছিল দ্বিধায়।
পরবর্তীতে বিরোধীদের সমালোচনা ও জনমতের চাপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ নিজেই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রস্তাবটি বাতিল করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বিতর্ক গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক হতো না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের ভেতরেও কিছু অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে ট্রেজারার জিম চালমার্স-এর আগের একটি নীতিগত উদ্যোগ বাতিলের ঘটনার মতোই আবারও মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সতর্ক ও বাস্তবভিত্তিক কৌশল নিয়েই সংকট মোকাবিলা করছেন। শুরুতে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন-এর ওপর ছেড়ে দিলেও পরিস্থিতি অবনতি হলে তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ন্যাশনাল ক্যাবিনেট বৈঠক ডেকে সরকার জ্বালানি শুল্ক কমানোসহ একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।