ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রডিক গেটের সামনে ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে নামাজ আদায় করছেন মুসলিমরা। নতুন আইনে পৌরসভার বিশেষ অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের খোলা স্থানে সম্মিলিত প্রার্থনা আর অনুমোদিত হবে না। ছবি: জন মাহোনি / মন্ট্রিয়াল গেজেট
মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল: কানাডার কুইবেক প্রদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা আইন আরও কঠোর করে নতুন আইন ‘বিল ৯’ পাস হয়েছে, যার ফলে প্রকাশ্যে রাস্তায় সম্মিলিত নামাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
নতুন আইনের অধীনে, জনসমাগমপূর্ণ খোলা স্থানে সম্মিলিত প্রার্থনা বা নামাজ আয়োজন করতে হলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—যেমন ডে-কেয়ার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেশাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র—এ প্রবেশ বা কাজ করার সময় সবার মুখ খোলা রাখতে হবে।
এই আইনটি কুইবেকের বিদ্যমান ধর্মনিরপেক্ষতা আইন ‘বিল ২১’-এর পরিধি আরও বাড়িয়েছে। এখন থেকে ডে-কেয়ার কর্মী, ভর্তুকিপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং অভিবাসন-সম্পর্কিত সেবাদানকারী কর্মীদের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় প্রতীক পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
এছাড়া, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান—যেমন হাসপাতাল, বেসরকারি স্কুল ও ডে-কেয়ার—যদি ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করে, তাহলে তাদেরকে অন্যান্য বিকল্প খাবারও বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আইনটি পাস হওয়ার পরপরই বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ব্রাউন এই আইনকে “ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমতার ওপর সরাসরি আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, “এটি কুইবেকের সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—তাদের অধিকারগুলোর কোনো মূল্য নেই। অনেক মুসলিম কুইবেকবাসী মনে করছেন, তাদের সাংবিধানিক অধিকার এখন কাগজের চেয়ে বেশি কিছু নয়।”
স্টিফেন ব্রাউন আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে মাত্র ৯ শতাংশ জনসমর্থন পাওয়া ক্ষমতাসীন দল কোয়ালিশন আভেনির কুইবেক এই ধরনের আইন পাস করে নাগরিকদের অধিকার সংকুচিত করছে।
তিনি বলেন, এই আইনগুলো সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় গত কয়েক দশকের অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ কানাডিয়ান। আমার পরিবার সাত প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছে। এই আইন আমাকে ১৯৫০-এর দশকের সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন বলা হতো—তোমার চেহারার কারণে তুমি শিক্ষক বা পুলিশ হতে পারবে না।”
আইনটির বিরোধী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আইনি সব পথ ব্যবহার করে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তাদের মতে, এই আইন কানাডার সংবিধান ও মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, কুইবেক সরকার দাবি করছে, এই পদক্ষেপ প্রদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ঐক্য জোরদার করার জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবে এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।
Source: মন্ট্রিয়াল গেজেট