হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: একদিনে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- দেশে ছোঁয়াচে রোগ হাম-এর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে হামের…
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বার্তার শুরুতেই তিনি কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, “মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।” এরপর তিনি দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির জাতীয় জীবনের অন্যতম প্রধান উৎসব, যা নতুনের বার্তা নিয়ে আসে এবং মানুষের মধ্যে আনন্দ ও আশার সঞ্চার করে।
তিনি উল্লেখ করেন, মুঘল আমলে ফসলি সন হিসেবে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় আজ সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব এখন বিশ্বজুড়ে বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তান আমলে বাঙালির সাংস্কৃতিক শেকড় ধ্বংসের লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। স্বাধীনতার পর এই উৎসব বাঙালির জাতীয় জাগরণ, ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে নতুন মাত্রা পায়।
মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের এই আয়োজন এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে ইউনেস্কো এটিকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাকরিজীবীদের জন্য ‘বৈশাখী ভাতা’ চালু করা হয়েছে।
তবে সমালোচনার সুরে তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ও অসাংবিধানিক শক্তি এই উৎসবকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাঙালির ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক সমাজে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ থেকেই এই উৎসবের বিকাশ। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও তিনি চীন ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উদযাপনের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় বিভাজনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এই উৎসবকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টা ভেদবুদ্ধির পরিচায়ক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বৈশাখী উৎসবের ধারাবাহিকতায় দেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও শক্তিশালী হবে।
বার্তার শেষাংশে তিনি আবারও দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।” একইসঙ্গে তিনি কামনা করেন, “আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au