ফের হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবরোধ জারি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির প্রতিরক্ষা…
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় ইছামতী নদী থেকে রতিকান্ত জয়ধর (৪৬) নামের এক বাংলাদেশির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। পরে মহেশপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত রতিকান্ত জয়ধর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে টাকা নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই পথেই তিনি প্রাণ হারান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আট বছর আগে রতিকান্ত জয়ধরের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর চার সন্তানকে নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চলে যান। এরপর থেকে রতিকান্ত কয়েকবার সেখানে যাতায়াত করেছেন। পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগও ছিল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তিনি বাড়ি বিক্রি করে টাকা নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি ছাড়ার সময় তিনি কারও সঙ্গে যাচ্ছেন বা কোন পথে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা পুলিশ তার ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধরকে মৃত্যুর খবর জানায়। রাতেই তিনি সীমান্ত এলাকায় গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।
রণজিৎ জয়ধর বলেন, মঙ্গলবার সকালে ভাই বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে শেষকৃত্য করা হবে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবির সহযোগিতায় ইছামতী নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে থাকা নথিপত্রের ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে গুলি কারা করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করেন থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, মরদেহের ঘাড়, পাঁজর ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, স্থানীয়রা কচুরিপানার নিচে মরদেহ দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, মরদেহটি সীমান্তের প্রায় ১০ গজ ভেতরে ইছামতী নদীতে ভাসছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় কোনো ধরনের গুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি সীমান্তে সংঘটিত কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au