নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জারি করা এই নির্দেশনায় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে দেশের সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামীর (আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) সঙ্গে বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এই যোগাযোগের সূত্র ধরে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানানো হয়।
গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট চক্রটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং রাজধানীর শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পাশাপাশি বোমা বিস্ফোরণের মতো নাশকতার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার চেষ্টা চালানো হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, প্রবেশপথে কড়াকড়ি বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি জোরদার এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজর রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্যও বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
গোয়েন্দা তথ্যে সম্ভাব্য হামলা পরিকল্পনায় জড়িত হিসেবে কয়েকজন ব্যক্তির নাম ও পরিচয়ও উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ রাহেদ হোসেন মাহেদ নামে একজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যোগাযোগ ও তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বাড়ি সিলেট জেলায় এবং তিনি একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। এছাড়া মোহাম্মদ রাকিব হাসান নামে আরেকজন, যিনি উবাইদা আল উসামা নামে পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সাভার ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে তাদের আটক করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে সম্ভাব্য যেকোনো হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au