বিশ্ব

ইরান যুদ্ধবিরতি ও পারমাণবিক চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্রের এক পাতার সমঝোতা স্মারক: কী থাকছে আলোচনায়

  • 11:53 pm - May 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৪৪ বার
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এর পতাকা। প্রতিকী ছবি

মেলবোর্ন, ৬ মে-ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে হোয়াইট হাউসের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উভয় পক্ষ এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে, যদিও এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্রগুলোর মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক ঘোষণা, এরপর বিস্তারিত আলোচনার পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং বিদেশে আটকে থাকা কয়েকশ কোটি ডলার ছাড় করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধও তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।

তবে এই সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো মূলত পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভবিষ্যতে আবারও উত্তেজনা বা সংঘাত ফিরে আসার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো বর্তমানে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে, যার কারণে চুক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হতে পারে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা এমনকি প্রথম ধাপের সমঝোতায় পৌঁছানো নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে একাধিক দফা আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এবারও আলোচনার গতি নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চূড়ান্ত ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান চালানোর পূর্ব ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন। আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই তিনি আপাতত সামরিক উত্তেজনা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বর্তমানে এক পাতার এই সমঝোতা স্মারকের ১৪টি দফা নিয়ে দর কষাকষি চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খসড়া অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩০ দিনের একটি নিবিড় আলোচনা পর্ব শুরু হবে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির চেষ্টা করা হবে। আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ অথবা জেনেভার নাম সামনে এসেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ৩০ দিনের সময়সীমায় উভয় পক্ষ ধাপে ধাপে নিজেদের আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করবে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় অবরোধ আরোপ করতে পারে কিংবা সামরিক পদক্ষেপের পথেও যেতে পারে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ এখন অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়। সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১২ থেকে ১৫ বছরের স্থগিতাদেশ চাইছে, যদিও এক পর্যায়ে ২০ বছরের দাবি তুলেছিল ওয়াশিংটন। ইরান পক্ষ থেকে ৫ বছরের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এ ধরনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে না—এই অঙ্গীকার। পাশাপাশি দেশটির ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা নিয়েও কঠোর নজরদারির প্রস্তাব রয়েছে আলোচনায়।

চুক্তি বাস্তবায়িত হলে জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা যেকোনো সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারবেন। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা অর্থ ছাড় দেবে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরান তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সম্মত হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত। এমনকি এসব উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এ ধরনের চুক্তি এক দিনে লেখা সম্ভব নয় এবং বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও কৌশলগত। তার মতে, আলোচনার শুরুতেই ইরান কতটা ছাড় দিতে রাজি, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

তবে তিনি একই সঙ্গে ইরানের কিছু শীর্ষ নেতার আচরণ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এই শাখার আরও খবর

ঢাকায় রাতভর ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে নগরবাসী

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :   রাজধানী ঢাকায় এক রাতেই অন্তত পাঁচটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খিলগাঁও, আদাবর,…

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রভাব পোশাকশিল্পে, শ্রমিক আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে দলীয় পরিচয়!

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এখন পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার সংকুচিত…

বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, নৈতিকভাবে পোশাক কেনার আহ্বান অস্ট্রেলিয়ায়

বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও উন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বৈশ্বিক পোশাকশিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় শ্রমিকদের শোষণের ঝুঁকি…

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙল এনসিপি নেতারা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ভাষাসৈনিক ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কুমিল্লার ঐতিহাসিক বাসভবনের সামনে স্থাপিত সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।…

৭ নভেম্বর: সংহতির আড়ালে বিভাজন

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেনি। সেই সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা, অর্থনৈতিক মুক্তি…

আওয়ামী লীগের দখলে ঢাকার রাজপথ

ভাস্কর দত্ত : রাজধানীর রাজপথে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কখনো ঝটিকা মিছিল, কখনো মশাল মিছিল,…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au