বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রস্তুত দিল্লি, আলোচনায় বসার ইঙ্গিত
মেলবোর্ন, ৭ মে- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে চায় দিল্লি। বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ভারত। অতীতের…
মেলবোর্ন, ৬ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল বিজয়ের মাত্র দুই দিনের মাথায় কলকাতার ঐতিহাসিক নিউমার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট ভাঙার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে একাধিক দোকানঘরে বুলডোজার চালানো শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকটি দোকান সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী সৌম্য মণ্ডল। তিনি বলেন, পুরো একটি বড় অংশজুড়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তিনি সীমিতভাবে তা দেখতে ও ভিডিও করতে সক্ষম হন।
সৌম্য মণ্ডলের ভাষ্য অনুযায়ী, কলকাতা পৌরসভার উল্টো পাশে একটি কাপড়ের দোকানে প্রথমে বুলডোজার আঘাত করা হয়, এরপর সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। পাশেই ছিল একটি জনপ্রিয় খাবারের দোকান, ইউপি-বিহার, যেখানে স্থানীয়ভাবে গরুর মাংসসহ বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। তিনি জানান, ভাঙচুর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের ভেতরের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কর্মীরা আতঙ্কে বেরিয়ে আসেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উচ্চ শব্দে সংগীত বাজানো হচ্ছিল এবং রাজনৈতিক স্লোগান শোনা যাচ্ছিল, যার মধ্যে “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুরো এলাকা তখন দলীয় পতাকায় ভরে যায় বলেও তার অভিযোগ।
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সৌম্য মণ্ডল বলেন, সেখানে কলকাতা পুলিশের একাধিক সদস্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও ঘটনাটি তাদের সামনেই ঘটেছে। তবে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের ভিডিও করতে পারেননি বলে জানান।
তিনি আরও জানান, একাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কতগুলো দোকান ভাঙা হয়েছে তার পূর্ণ তালিকা তিনি দেখতে পারেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন, কারণ ছবি তুলতে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয় বলে দাবি করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাঙচুরে তাদের একটি দলীয় কার্যালয় এবং সংলগ্ন কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনার সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ছিল উত্তপ্ত। গত সোমবার বিজেপি প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। এরপরই এমন ঘটনার খবর প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের বড় অংশই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর প্রশাসন কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, বুলডোজার ব্যবহার করে কোনো ধরনের মিছিল বা ভাঙচুর বরদাশত করা হবে না। তিনি আরও বলেন, যেসব মালিক বুলডোজার ভাড়া দিয়ে এ ধরনের কাজে ব্যবহার করতে দেবেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au