চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২, ধসে পড়ল ১৩ ভবন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ মে- দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের আঘাতে ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সোমবার (১৮ মে) চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ২১ মিনিটে গুয়াংশি অঞ্চলের লিউঝৌ শহরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকাজুড়ে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি ও সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লিউঝৌ শহর। সেখানে অন্তত ১৩টি ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ার আশঙ্কায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে জরুরি সেবা বিভাগ।
ভূমিকম্পে নিহত দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহত স্বামীর বয়স ৬৩ বছর এবং স্ত্রীর বয়স ৫৩ বছর। তাদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে দিনভর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও পরাঘাতের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে সাত হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে খোলা স্থানে রাত কাটিয়েছেন।
ভূমিকম্পের কারণে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
সিসিটিভির প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহুতল ভবন থেকে আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত রাস্তায় নেমে আসছেন। বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনের পাশে ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরা উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা শনাক্ত করতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
চীনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল অপেক্ষাকৃত অগভীর গভীরতায়। ফলে কম্পনের তীব্রতা আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর এলাকাজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসা দল, দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী সদস্যদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।