বাহরাইন-কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নাজুক যুদ্ধবিরতির আবহে আবারও বাহরাইন ও কুয়েতের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার দাবি করেছে ইরান। শনিবার ভোরে চালানো এ হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চজুড়ে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান দাবি করেছে যে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, সম্প্রতি ইরানের কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকার নজরদারি ও সামরিক পর্যবেক্ষণ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে, তা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এরই প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ইরানি কর্তৃপক্ষের।
ইরানের সামরিক সূত্রগুলো বলছে, অঞ্চলজুড়ে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অন্যদিকে বাহরাইন সরকার ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংযম প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কুয়েতের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য যেকোনো হুমেলা মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা।