যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার সংঘর্ষ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর
মেলবোর্ন, ৭ জুন- লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র…
মেলবোর্ন, ৭ জুন- দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারও একজন নারী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পথে রয়েছেন। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং প্রধানমন্ত্রী পদে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও স্টার্টআপবিষয়কমন্ত্রী হান সিওং-সুক-কে মনোনয়ন দিয়েছেন। পার্লামেন্টের অনুমোদন মিললে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
রোববার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ মনোনয়নের ঘোষণা দেয়। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মহলেও এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, হান সিওং-সুক শুধু একজন মন্ত্রীই নন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ।
সরকারি দায়িত্বে আসার আগে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Naver-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা নতুন সরকারের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ কাং হুন-সিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে হান সিওং-সুক নেতৃত্ব দেবেন বলে সরকার আশা করছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। এখন সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে হান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে বিশ্বাস সরকারের।
বিশ্লেষকদের মতে, হান সিওং-সুকের মনোনয়ন শুধু লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসারও একটি বার্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ঘোষণা করেছেন, তা বাস্তবায়নে হানকে অন্যতম প্রধান কৌশলগত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদটি সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র না হলেও সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নে এ পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পার্লামেন্টে অনুমোদন পেলে হান সিওং-সুক শুধু ইতিহাস গড়বেন না, একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের অন্যতম মুখ হিসেবেও আবির্ভূত হবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au