গাজায় পুলিশ ফাঁড়িতে ইসরায়েলি হামলা । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ জুন- গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে একটি পুলিশ ফাঁড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে তৎপরতা চালায়।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িটিতে এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজারো ফিলিস্তিনি বর্তমানে ওই এলাকায় অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। ফলে হামলার সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিল।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন, যারা হামলার সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের কয়েকটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলায় আহত অন্তত ১২ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে খান ইউনিসের কুয়েতি হাসপাতাল ও নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আল-মাওয়াসি এলাকা বর্তমানে গাজার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর একটি। যুদ্ধ ও অব্যাহত বোমাবর্ষণের কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে জনবহুল এই এলাকায় হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে খান ইউনিস ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে আসছে। খাদ্য, পানি, চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে থাকা লাখো ফিলিস্তিনির জীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সর্বশেষ হামলার পর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলেও সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সুত্রঃ আলজাজিরা