মেলবোর্ন, ৮ জুন-উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদ। একই সঙ্গে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার চার শিশুর মৃত্যুতেও সংসদে শোক জানানো হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তথা বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে কণ্ঠভোটে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ সময় প্রয়াতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শোক প্রস্তাবে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্মরণ করা হয় তোফায়েল আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, এ কে এম রহমত উল্লাহ, দবিরুল ইসলাম, এ বি এম আনোয়ারুল হক, মোসলেম উদ্দিন, শফিক আহমেদ, আবদুল মতিন, মিজানুর রহমান সিনহা, অধ্যাপক এম এ মান্নান, দেওয়ান শামসুল আবেদীন, জি এম ফজলুল হক, সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার, আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক, গোলাম সারোয়ার মিলন এবং মোহাম্মদ সামসুদ্দোহাকে।
এ ছাড়া দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতেও সংসদ শোক প্রকাশ করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা হাফিজ, জাতীয় অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদ, কবি হেলাল হাফিজ, ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, লেখক ও চিন্তাবিদ বদরুদ্দীন উমর, নজরুলসংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, বেগম জেবুন্নেছা, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, সংঘরাজ ড. জ্ঞানীশ্রী মহাস্থবির এবং সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী।
সংসদে পল্লবীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার চার শিশুর মৃত্যুতেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং গণমাধ্যমের নীতিমালা অনুসরণ করে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সংসদ সদস্যরা প্রয়াত ব্যক্তিদের অবদান স্মরণ করেন। বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।
সংসদের এই শোক প্রস্তাবের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের কর্ম ও অবদান জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।