ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
মেলবোর্ন, ৮ জুন- হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা সময়মতো আমদানি না করা এবং এর ফলে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়া ও মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক…
মেলবোর্ন, ৮ জুন- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে ডানপন্থি দল ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে দলটির প্রতি নিজের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। কয়েক মাস আগেও ওয়ান নেশন এবং এর নেতা পলিন হ্যানসনের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করলেও এবার তিনি দলটির সমর্থকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলেছেন। তবে হ্যানসন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত কিনা, সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে এড়িয়ে গেছেন তিনি।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার জনগণ যেভাবে ভোট দেন এবং যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তিনি তা সম্মান করেন। তার মতে, বর্তমানে অনেক অস্ট্রেলীয় মনে করছেন যে প্রচলিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাদের জন্য কাজ করছে না এবং এই অসন্তোষই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন বাড়িয়ে তুলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক মানুষ মনে করছেন তারা অর্থনীতির জন্য কাজ করছেন, কিন্তু অর্থনীতি তাদের জন্য কাজ করছে না। তারা কঠোর পরিশ্রম করেও সঞ্চয় করতে পারছেন না, বাড়ি কিনতে পারছেন না এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির উত্থান আরও বাড়বে।
সাংবাদিকরা যখন জানতে চান, পলিন হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য কিনা, তখন আলবানিজ সরাসরি কোনো মূল্যায়ন দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, তিনি লেবার পার্টির সমর্থক এবং সারাজীবন লেবারকেই ভোট দেবেন। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অন্যরা কাকে ভোট দেবেন, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

অস্ট্রেলিয়ায় বাজেট-পরবর্তী জরিপে আলবানিজ ছাড়িয়ে এগিয়ে গেল ওয়ান নেশন। ছবিঃ সংগৃহীত
এই অবস্থান কয়েক মাস আগের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক রাজনৈতিক পডকাস্টে আলবানিজ বলেছিলেন, পলিন হ্যানসন এমন একজন রাজনীতিক যিনি মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেন এবং সমাজের নেতিবাচক প্রবণতাগুলোকে উসকে দেন।
সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, হ্যানসন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এশীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয়, মুসলিম সম্প্রদায় এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঘিরে বিভাজনের রাজনীতি করেছেন। জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পরিবর্তে তিনি সবসময় কোনো না কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী করার চেষ্টা করেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন আলবানিজ।
তবে এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। বিভিন্ন জনমত জরিপে ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং সাম্প্রতিক এক জরিপে দলটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক ভোটের হিসাবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে ছাড়িয়ে যায়।
স্কাই নিউজ পালস ও ইউগভ পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ওয়ান নেশন ২৯ শতাংশ প্রাথমিক ভোটার সমর্থন পেয়েছে। ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনের তুলনায় এটি ২৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে লেবার পার্টির সমর্থন নেমে এসেছে ২৬ শতাংশে, যা দলটির ইতিহাসে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ের ফলাফল। বিরোধী জোটের সমর্থন আরও কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের ক্রমবর্ধমান হতাশার প্রতিফলন। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে অনেক ভোটার বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছেন।
জনমত জরিপে শুধু দলীয় সমর্থনই নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলবানিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ ভোটার তার নেতৃত্বে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে তার নেতৃত্বে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার। ফলে তার সামগ্রিক জনপ্রিয়তার সূচক নেতিবাচক ২৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা তার জন্য বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওয়ান নেশনের উত্থান এবং লেবার পার্টির সমর্থন হ্রাসের এই প্রবণতা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট আগামী দিনের রাজনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠতে যাচ্ছে এবং সেই বাস্তবতায় প্রচলিত দলগুলোর পাশাপাশি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিগুলোও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au