বাংলাদেশ

আন্দোলন ছিল না, ষড়যন্ত্র ছিল: জুলাই-আগস্টের অজানা কথা

সরদার সেলিম রেজা। কবি ও পরিবেশ কর্মী, সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র ঢাকা।

  • 3:54 pm - June 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১১০ বার
সরদার সেলিম রেজা। কবি ও পরিবেশ কর্মী, সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র ঢাকা।

মেলবোর্ন, ১১ জুন-  ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বিতর্কিত অধ্যায়। এক মাসেরও কম সময়ে দেশে যা ঘটেছে, তা নিয়ে এখনো জাতি দ্বিধাবিভক্ত। একপক্ষ একে “গণঅভ্যুত্থান” বলে। আরেকপক্ষ একে “ষড়যন্ত্র” বলে। আমি একজন ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে ঘটনাপ্রবাহ, পরিসংখ্যান আর ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। তাতে যা উঠে আসে তা হলো—এটা শুধু কোটা আন্দোলন ছিল না। এটা ছিল রাজপথের মুখোশ পরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সুপরিকল্পিত নকশা।

১ জুলাই ২০২৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। দাবিটা ন্যায্য ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মেধার মর্যাদা—এগুলো নিয়ে বিতর্ক নাই। সরকারি চাকরিতে ৫৬% কোটা বহাল থাকায় সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের হতাশা বাড়ছিল। তাদের দাবি ছিল—কোটা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হোক।

রাষ্ট্র শুরুতে সময় নিলেও ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দেয়—কোটা ৫৬% থেকে কমিয়ে ৭% করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫%, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ১%, প্রতিবন্ধী ১%। আন্দোলনের মূল দাবি মেনে নেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দাবি মানা হলে আন্দোলন শেষ হয়। কিন্তু এখানে শেষ হয়নি। উল্টো ২ জুলাই থেকে “কমপ্লিট শাটডাউন”, ৩ আগস্ট “লং মার্চ টু ঢাকা”, ৪ আগস্ট “এক দফা—সরকার পতন” স্লোগান আসে।

প্রশ্ন উঠে যায়—কোটা পাওয়ার পর সরকার পতন চাও কেন? দাবি ছিল কোটা সংস্কার। লক্ষ্য হয়ে গেল ক্ষমতা দখল। এখানেই আন্দোলন থেকে ষড়যন্ত্রের দিকে মোড় নেয় ঘটনা।

১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট—মাত্র ৩৬ দিন। কিন্তু এই ৩৬ দিনে বাংলাদেশ যে ক্ষতি সয়েছে, তা পূরণ হতে অনেক বছর লাগবে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম, হাসপাতাল ও বেসরকারি সংস্থার তথ্য মিলিয়ে চিত্রটা এরকম:

মেট্রো রেল—ঢাকার আধুনিকায়নের প্রতীক। মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ২-৩ বছর লাগবে মেরামতে। সেতু ভবন—দেশের সড়ক যোগাযোগের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। আগুনে নথি, সার্ভার পুড়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন—রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র। জাতীয় ডাটা সেন্টার—১৮ কোটি মানুষের ডিজিটাল তথ্যের ভাণ্ডার। হামলা হয়েছে সেখানে। ২০০+ থানা, ৫০+ পুলিশ বক্স, ৩০+ আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুয়াজ্জেম হোসেন হল, জাহাঙ্গীরনগরের সাবেক ভিসির বাসভবন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর—ইতিহাস ও ঐতিহ্যও আক্রান্ত।

প্রাথমিক হিসাবে ১.৫ বিলিয়ন ডলার। ৫ দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় শুধু আইটি-ফ্রিল্যান্সিং খাতে ৩০ কোটি ডলার লোকসান। গার্মেন্টস সেক্টরে রপ্তানি আদেশ বাতিল। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাওয়ালা, দিনমজুর—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। রাষ্ট্রের সম্পদ মানে জনগণের ট্যাক্সের টাকা। সেই টাকা পোড়ানো মানে জনগণের পকেট কাটা।

আন্দোলন মানুষের অধিকার আদায় করে, রাষ্ট্র গড়ে। এখানে রাষ্ট্রের নার্ভ সেন্টারে হামলা হয়েছে। আন্দোলন জীবন বাঁচায়, এখানে জীবন গেছে।

৫ আগস্ট নিয়ে জাতির সামনে দুইটা বর্ণনা প্রচলিত। রাষ্ট্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী—প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেশত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে বিবৃতি আসে। সংসদ বিলুপ্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

কিন্তু দেশের কোটি মানুষের বিশ্বাস, মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ও ঘটনার ধারাবাহিকতা বলে অন্য কথা। তাদের মতে—সেদিন তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। সারাদেশে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা, গণভবন ঘেরাওয়ের মুখে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমানে তাঁকে ভারতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এখনো ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জনগণের সরাসরি ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। সাংবিধানিকভাবে তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি—এগুলোর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আছে। জনগণের রায় ছাড়া, সংবিধানের ধারা লঙ্ঘন করে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই নড়ে যায়। নির্বাচিত সরকারের ধারাবাহিকতা ছিন্ন করে যে “নতুন বন্দোবস্ত” এসেছে, তার বৈধতা নিয়ে আইনজ্ঞ-রাজনীতিকদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ইতিহাসের বিচার একদিন হবে। আজকের বর্ণনা কালকের সত্য নাও হতে পারে।

একটা আন্দোলন আর একটা ষড়যন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য আছে। জুলাই-আগস্টের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে ৭টা আলামত স্পষ্ট হয়:

১. দাবি বনাম লক্ষ্য: কোটা সংস্কার ছিল মুখের কথা। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার পরও আন্দোলন থামেনি। “এক দফা” মানে সরকার পতন। দাবি আদায়ের পর আন্দোলন চললে বুঝতে হবে আসল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।

২. টার্গেট সিলেকশন: সাধারণ ছাত্র আন্দোলন হয় ক্যাম্পাসে, রাজপথে। এখানে টার্গেট ছিল মেট্রো, ডাটা সেন্টার, থানা, টিভি স্টেশন। রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার নকশা। দাবি আদায় করতে রাষ্ট্র ভাঙতে হয় না।

৩. অস্ত্রের উৎস: ১৫ জুলাইয়ের পর হঠাৎ পেট্রোল বোমা, ককটেল, ধারালো অস্ত্র চলে আসে। মলোটভ ককটেল আকাশ থেকে পড়ে না। আগে থেকে তৈরি থাকে। এটা পরিকল্পনার প্রমাণ।

৪. সময় ও সমন্বয়: সারাদেশে একই দিনে, একই সময়ে থানা-পুলিশ বক্সে হামলা। এত বড় সমন্বয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয় না। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা লাগে।

৫. স্লোগান ও স্ক্রিপ্ট: “লং মার্চ টু ঢাকা”, “কমপ্লিট শাটডাউন”—এগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব স্লোগান না। বিদেশি টেমপ্লেট হুবহু কপি করা হয়েছে। দেশের মাটিতে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা।

৬. লাশের রাজনীতি: নিরীহ শিক্ষার্থী মারা গেছে—এটা বেদনার। কিন্তু সেই লাশ সামনে রেখে রাজনীতি করা হয়েছে। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতার সিঁড়ি বানানো হয়েছে। এটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না।

৭. দায়মুক্তির বন্দোবস্ত: ৫ আগস্ট-পরবর্তী সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ”। এতে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে বিচার হয়, ষড়যন্ত্রে দায়মুক্তি লাগে—এটাই নিয়ম।

জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে শুধু রাজপথের সহিংসতা না, পর্দার আড়ালের নেতৃত্ব-সংযোগ-অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়া নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের আগের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি—সরকার পতনের পরপর ক্ষমতায় আসা ব্যক্তির আগের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার। আবার নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন ও জামাত-শিবিরের মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তার অভিযোগ বিভিন্ন সূত্রে এসেছে। তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়া এত বড় সমন্বয় কঠিন—এমন মতও আছে। একইসাথে “লং মার্চ”, “শাটডাউন” স্লোগানের বিদেশি টেমপ্লেট, ডিজিটাল মাধ্যমে সমন্বিত প্রোপাগান্ডা আর অর্থের উৎস নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকা—এগুলো মিলিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ৩৬ দিনের সহিংসতা চালাতে বিপুল অর্থ লেগেছে। পেট্রোল বোমা, ককটেল, লজিস্টিক, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন—সবই ব্যয়বহুল। সেই অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেল দিয়ে আসেনি—হুন্ডি, ক্রিপ্টো বা বিদেশি অনুদানের অভিযোগ উঠেছে। অর্থের উৎস না জানলে ষড়যন্ত্রের নাটের গুরু ধরা যাবে না। তবে এগুলো এখনো অভিযোগ পর্যায়ে আছে। সত্য বের করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন দরকার। প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী-নির্দোষ আলাদা করতে হবে।

জুলাই-আগস্টে যা ঘটেছে তার ভিডিও ফুটেজ, লাইভ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য—সবই এখন ওপেন সোর্স। সেখানে কেউ কেউ নিজ মুখেই নৈরাজ্য, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এমনকি পুলিশ হত্যার কথা স্বীকারের মতো বক্তব্য দিয়েছে। ছবি-ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও তাদের আইনের আওতায় আনা হলো না কেন?

বরং ৫ আগস্ট-পরবর্তী “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ” জারি করে তাদের ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—এগুলো ফৌজদারি অপরাধ। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২, ৪৩৬, ১৪৭ ধারা অনুযায়ী এগুলোর শাস্তি আছে। অপরাধের ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও দায়মুক্তি দেওয়া মানে বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো।

আন্দোলনকারী বিচার চায়, সন্ত্রাসী দায়মুক্তি চায়। প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আইনের আওতায় না আনা হলে আগামীতে যে কেউ “আন্দোলন” ট্যাগ লাগিয়ে রাষ্ট্র ভাঙবে আর পার পেয়ে যাবে। এটা বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর নজির। আজ যারা দায়মুক্তি পাবে, কাল তারাই আবার রাষ্ট্র ভাঙার সাহস পাবে।

দরকার অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন। জাতিসংঘ, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, মানবাধিকার কমিশন—সবাই মিলে তদন্ত করুক। ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি, কল রেকর্ড, মোবাইল ডাটা যাচাই করে দোষী-নির্দোষ আলাদা করতে হবে। যারা অপরাধ করেছে তারা আন্দোলনকারী না—তারা অপরাধী। অপরাধীর কোনো দল নাই, অপরাধীর দায়মুক্তি নাই।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে বহুবার অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হয়েছে। ১/১, বিভিন্ন ক্যু প্রচেষ্টা—প্রতিবারই “জনগণ, সংস্কার, বিপ্লব” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ তার ব্যতিক্রম না। পার্থক্য শুধু—এবার হাতে স্মার্টফোন ছিল, টিকটক-ফেসবুক ছিল, এআই-ডিপফেক ছিল।

৫ আগস্ট-পরবর্তী ১০ মাসে দেশ যা দেখেছে—আইনশৃঙ্খলার ভাঙন, বিনিয়োগ স্থবিরতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ফাটল, বিচারবহির্ভূত হত্যা-হামলার অভিযোগ। এগুলোই প্রমাণ করে রাজপথের উদ্দেশ্য শুধু কোটা সংস্কার ছিল না।

বাংলাদেশের মানুষ বোকা না। তারা ১৯৫২, ১৯৭১-এ রক্ত দিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র ভাঙতে দেয়নি। জুলাই-আগস্টেও তারা রক্ত দিয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র ভাঙার ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে। এখন দরকার সত্য উদঘাটন আর বিচার।

রাষ্ট্র কারও বাপের সম্পত্তি না। আবার জনগণের আবেগ নিয়ে খেলার পুতুলও না। জুলাই-আগস্ট আমাদের তিনটা শিক্ষা দিয়েছে:

১. দাবি আদায়ে রাজপথ লাগে, কিন্তু রাষ্ট্র চালাতে লাগে সংবিধান, আইন আর সহনশীলতা।
২. সহিংসতা দিয়ে পরিবর্তন আনলে পরিবর্তনের পর আবার সহিংসতাই আসে। চক্র থেকে বের হওয়া যায় না।
৩. সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ভাঙলে ক্ষতি হয় গোটা জাতির, কোনো দলের না। আজ আপনি ভাঙবেন, কাল আপনার ওপর ভাঙবে।

পতন আমরা দেখেছি। উত্থান চাই। কিন্তু উত্থান আসবে সত্য উদঘাটনের মধ্য দিয়ে, বিচারের মধ্য দিয়ে। জুলাই-আগস্টে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের রক্তের হিসাব লাগবে। যারা রাষ্ট্র ভেঙেছে তাদের বিচার লাগবে। মুখোশের আড়ালে থাকা ষড়যন্ত্র, দেশি-বিদেশি নকশা, অজানা অর্থায়ন—সব সামনে আনতে হবে। নইলে আগামী প্রজন্ম আমাদের প্রশ্ন করবে—তোমরা জুলাই-আগস্টে চুপ ছিলে কেন?

বাংলাদেশ টিকবে জনগণের রায়ে, ষড়যন্ত্রের নকশায় না। বাংলাদেশ টিকবে আইনের শাসনে, দায়মুক্তির সংস্কৃতিতে না। ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না, যদি আমরা সত্য লুকাই।

এই শাখার আরও খবর

পুশ-ইন ইস্যুতে অচলাবস্থা, বিএসএফ-বিজিবির শীর্ষ বৈঠকেও মিলল না সমাধান

মেলবোর্ন, ১২ জুন- ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে কথিত ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ…

বাজেটে বাড়তে ও কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম

মেলবোর্ন, ১২ জুন- জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান সরকারের…

ঋণনির্ভর বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

মেলবোর্ন, ১২ জুন- প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি…

অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে প্রথমবার হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ১২ জুন- ৪০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে…

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের, ‘আজ রাতেই কঠোর হামলা’

মেলবোর্ন, ১২ জুন- ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই…

কুষ্ঠরোগীদের নতুন জীবনের আশ্রয়, ১২ হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে দিনাজপুরের ধানজুড়ি কেন্দ্র

মেলবোর্ন, ১১ জুন- বাংলাদেশে কুষ্ঠরোগ নির্মূলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে দিনাজপুরের ধনজুড়ি কুষ্ঠরোগ কেন্দ্র। প্রায় এক শতাব্দী আগে ইতালীয় ধর্মযাজক ফাদার জোসেফ ওবার্টের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au