নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৬, কারণ জানালো কর্তৃপক্ষ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পুরনো ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার ভবনটির বেসমেন্টে সংস্কারকাজ…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য বিশেষ মাসিক সম্মানি ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য কর সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্যেই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য স্থায়ী কল্যাণমূলক সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বাজেট নথি অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে। একই পরিমাণ ভাতা পাবেন গুরুতর আহত ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত জুলাই যোদ্ধারাও। এছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সরকারের মতে, আন্দোলনে অংশ নিয়ে জীবন উৎসর্গকারী ও আহত ব্যক্তিদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের তুলনায় তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা তাদের জন্য একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটি প্রথম বাজেট। সংসদে উপস্থাপনের আগে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদন করা হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au