আদ্-দ্বীন হাসপাতাকে দায়ী করে যা ব্যবস্থা নিল সরকার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ জুন- ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. বাবুল হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এরপরই হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অক্সিজেন স্বল্পতার বিষয় উঠে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণার পর হাসপাতালটিকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ফটকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৭ মে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে আবেদন করলে সেই সুযোগ দেওয়া হয়। গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত জবাব জমা দেয়।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল্যায়নে ওই জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। ফলে ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিল হলেও অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।
এদিকে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানিয়েছেন, আগামী রোববার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে এক থেকে চার দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গত ৪ জুন প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা, পর্যাপ্ত বিকল্প ভেন্টিলেশনের অভাব এবং এর ফলে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাও এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। ঘটনাটিকে দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।