অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ জুন- অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কিত রাজনীতিক ও ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেত্রী পলিন হ্যানসন সাংবাদিকের সঙ্গে বিমানবন্দরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে উল্টো সংবাদমাধ্যমকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। পার্থ বিমানবন্দরে এক টেলিভিশন সাংবাদিকের প্রশ্নকে ‘বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর পর এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বুধবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর পার্থ বিমানবন্দরে সফি ফেন্না নামের এক টেলিভিশন সাংবাদিকের মুখোমুখি হন হ্যানসন। ওই সাংবাদিক বারবার তার ভ্রমণের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। বিশেষ করে খনিশিল্পের ধনকুবের গিনা রিনহার্ট উপহার দেওয়া ব্যক্তিগত বিমানে তিনি কেন ভ্রমণ করেননি, তা জানতে চান।
সাংবাদিক একাধিকবার জানতে চান, ‘জিনার বিমান কি নষ্ট হয়ে গেছে? আপনি কেন জিনার বিমানে এলেন না?’ হ্যানসন কোনো উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সাংবাদিক তার পিছু নেন এবং প্রশ্ন করেন, তিনি কি সাধারণ যাত্রীদের মতো ইকোনমি শ্রেণিতে ভ্রমণ করেছেন কি না।
এ সময় হ্যানসন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি এসব ‘বোকা প্রশ্নের’ উত্তর দেবেন না। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং সম্মান দেখাতে শিখতে হবে।
ঘটনার পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল হ্যানসনের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চায়, তরুণ ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ‘কঠোর ভাষায়’ কথা বলার জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না। সংবাদমাধ্যমটি আরও প্রশ্ন তোলে, অতীতে কিছু সংবাদমাধ্যমকে ওয়ান নেশন দলের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ করা এবং কয়েক সপ্তাহ আগে এক নারী সাংবাদিককে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধনের ঘটনার পর হ্যানসনের সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা গ্রহণে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না।
তবে হ্যানসন এ প্রশ্নের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডেইলি মেইল জানতে চেয়েছে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন কি না, কিন্তু তার প্রশ্ন হলো, আসলে ক্ষমা চাওয়ার কথা কার? এরপর তিনি পার্থ বিমানবন্দরের পুরো ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে জনগণকে বিচার করার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হ্যানসনের এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মূলধারার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ করে আসছেন।
সম্প্রতি ফ্যারার উপনির্বাচনের প্রচারণার সময় সংবাদ পরিবেশন নিয়ে বিরোধের জেরে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের সাংবাদিকদেরও ওয়ান নেশনের কিছু অনুষ্ঠান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে হ্যানসন দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তার প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ান এনার্জি প্রডিউসার্স সম্মেলনে মাইক্রোফোন খোলা অবস্থায় এক সাংবাদিককে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক প্রশ্নগুলো মূলত হ্যানসনের ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার এবং জিনা রাইনহার্টের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে কেন্দ্র করে ছিল। গত এপ্রিল মাসে হ্যানসন ঘোষণা দেন যে তিনি একটি নতুন বিমান উপহার পেয়েছেন। এর আগে রাইনহার্টের ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
সে সময় তিনি রসিকতার সুরে বলেন, তিনি নতুন একটি বিমান পেয়েছেন, যা দ্রুতগতির এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বেশি সফরের সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে তিনি সমালোচকদের খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেন, নতুন বিমানটি কিছু সংবাদমাধ্যমকে আরও বিরক্ত করবে।
এদিকে নতুন এই বিতর্কের মধ্যেই আগামী ১৭ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হ্যানসন। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের ‘লিডারস অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। বক্তৃতা শেষে তাকে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হবে।
সূত্র: স্কাই নিউজ