নিখোঁজ মফিজ ও আরিফ। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়ে প্রায় ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে ড্রোন হামলায় তাদের নিহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ দুই যুবক হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) এবং সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (৩০)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান মফিজ ও আরিফ। তাদের একজনকে রাজমিস্ত্রি এবং অন্যজনকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় দালাল ও এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। তবে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা পরিবারকে জানান, প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে একটি দালালচক্র তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। বিদেশে যাওয়ার পর ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে তারা নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার আকুতি করেছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৯ মে ছিল তাদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ। এরপর থেকে দুইজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশির নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। তবে এ তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
মফিজের মা মাহফুজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলে বিদেশে গিয়েছিল সংসারের হাল ধরতে। এখন তার কোনো খোঁজ নেই। তিনি ছেলের সন্ধান এবং প্রয়োজন হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে যারা কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছে, তাদের বিচারেরও দাবি করেন।
মফিজের বোন কণিকা জানান, রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলে তার ভাইকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে ফোনে ভাই জানিয়েছিল, তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। শেষবার কথা বলার সময় সে পরিবারের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল।
অন্যদিকে আরিফ হোসাইনের পরিবারও একই ধরনের অভিযোগ করেছে। আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের আশ্বাসে প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
আরিফের স্বজনরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী তারা জানতে পেরেছেন, ড্রোন হামলায় আরিফ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সরকারি কোনো সূত্র থেকে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দুই যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের পরিবার এখনো আশায় বুক বেঁধে প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে।