মেলবোর্ন, ২২ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোকেন জব্দের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ফেডারেল পুলিশ সিডনির পশ্চিমাঞ্চল থেকে প্রায় ২ দশমিক ৭ টন কোকেন উদ্ধার করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮১ কোটি ৬০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ মাদক প্রায় ৩০ লাখ মাদক লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা যেত।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানায়, ‘অপারেশন মিনজিয়াং’ নামে একটি বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেটার ওয়েস্টার্ন সিডনির লন্ডনডেরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকগুলো উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা তিনটি শিপিং কনটেইনারের নিচে বিশেষভাবে নির্মিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা কোকেনের চালান খুঁজে পান। প্লাস্টিকের বড় বড় পাত্রে সংরক্ষিত মাদকগুলো ভুয়া মেঝের আড়ালে গোপন করা হয়েছিল।
অভিযানের সময় ২১ ও ২৫ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আটক হন। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আমদানি করা বাণিজ্যিক পরিমাণ সীমান্তনিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
তদন্তে জানা গেছে, কোকেনের এই বিশাল চালান একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় আনা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, প্রথমে একটি বড় জাহাজ থেকে ছোট দুটি নৌকায় করে মাদকগুলো উত্তর কুইন্সল্যান্ডের মিডজ পয়েন্ট এলাকায় নামানো হয়। এরপর উপকূলীয় পথ ব্যবহার করে তা সিডনিতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানে জব্দ হওয়া মাদকবাহী চালানটি ‘এমভি ওয়েলথ’ নামের একটি জাহাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজটি বর্তমানে সলোমন দ্বীপপুঞ্জে আটক রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মাদকের উৎস সলোমন দ্বীপপুঞ্জ নয়; বরং এটি উত্তর এশিয়ার কোনো রুট ব্যবহার করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এর আগে একই তদন্তের অংশ হিসেবে কুইন্সল্যান্ডে ১৭৮ কেজি কোকেন ও ১৪২ কেজি মেথামফেটামিন জব্দ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় কুইন্সল্যান্ড ও সিডনি থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব চালান একই আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, প্রায় তিন টন কোকেন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করানোর এই পরিকল্পনা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রগুলো কতটা সংগঠিত এবং লাভের আশায় তারা কত দূর যেতে পারে। তিনি বলেন, মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের কমান্ডার ট্রয় সোকোলোফ বলেন, এই অভিযান অপরাধচক্রগুলোর জন্য একটি কঠোর বার্তা। তিনি জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং অবৈধ মাদক আমদানির যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এই জব্দ অভিযান শুধু অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসেই নয়, বরং দেশটির মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তদন্তকারীরা এখন পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন এবং এর পেছনে থাকা আন্তর্জাতিক চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।