সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সোমবার এ হামলার দায় স্বীকার করে হুতিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে মাঝ আকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশের রাজধানী আবহায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল তাদের হামলার লক্ষ্য। ইয়েমেন সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটি গ্রীষ্মকালে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার কারণে সৌদি নাগরিকদের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
২০২২ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের বড় ধরনের হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দীর্ঘ চার বছরে সৌদি ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো হামলার দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি হুতি গোষ্ঠী। ফলে সোমবারের এই হামলাকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কার্যত সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে আবারও সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
গত এপ্রিলে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার পর একটি সাময়িক বিরতির কারণে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল। তবে সর্বশেষ হামলা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আয়তনের দিক থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বড় হওয়ায় সৌদি আরব এতদিন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে হুতিদের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল এবং তেল রপ্তানিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অতীতে হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করেও একাধিক হামলা চালিয়েছে।
এদিকে হুতিরা অভিযোগ করেছে, সোমবার সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা এই হামলাকে “নগ্ন আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে এর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়। হুতিদের দাবি, তাদের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই প্রতিশোধেরই অংশ এবং এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামরিক জোটের দাবি, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।