একই ঘরে বন্দি ছিল ১৬ শিশু: বাবা-মা ও দাদা-দাদিসহ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার চারজন
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি থেকে ১৮ মাস থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৬ শিশুকে অমানবিক পরিবেশে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই…
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল লিবারেল পার্টির নেতা অ্যান্ড্রু হ্যাস্টি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সক্ষমতা ইরানের হাতে একটি ‘অর্থনৈতিক পারমাণবিক বোমার’ মতো শক্তিশালী চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, দেশটির জ্বালানি মজুত বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ তাদের অবকাঠামো ও বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানিয়েছে। তবে হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব মার্কিন সেনাসদস্যের হিসাব মিলেছে এবং কেউ নিখোঁজ নন।
এ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির প্রতিরক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হ্যাস্টি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি বিশ্ববাজারে সরবরাহ হয়। এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল বিশ্বের বহু দেশই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তার দাবি, ইরান এই পরিস্থিতিকে ভবিষ্যৎ আলোচনায় কৌশলগত চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
হ্যাস্টি আরও বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছে। তার দাবি, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার লক্ষ্যও তেহরানের থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন এবং এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সমালোচক হিসেবে পরিচিত হলেও হ্যাস্টি বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানের সামরিক শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে, যা তার মতে ইতিবাচক।
তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একাধিক ফ্রন্টে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সংকট নেই।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশটিতে সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় আরও বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানিসহ সব ধরনের জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তিনি দ্রুত কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, বিশ্ববাসী এখন সেই প্রত্যাশাই করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজ সরকার চলতি মাসে জ্বালানি শুল্কে দেওয়া অস্থায়ী ছাড় কমিয়ে প্রতি লিটারে ৩২ সেন্ট থেকে ১৬ সেন্টে নামিয়ে এনেছে। আগামী আগস্ট থেকে জ্বালানি শুল্ক আবার স্বাভাবিক হার, অর্থাৎ প্রতি লিটারে ৫২ দশমিক ৬ সেন্টে ফিরে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au