হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে: অস্ট্রেলীয় এমপি
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী…
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি থেকে ১৮ মাস থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৬ শিশুকে অমানবিক পরিবেশে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই বাড়িটিকে ইতোমধ্যে ‘হাউস অব হররস’ বা ‘বিভীষিকার ঘর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এ ঘটনায় শিশুদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের জীবন বিপন্ন করা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩০ জুন ওহাইওর ভিনটন কাউন্টির হ্যামডেন গ্রামের একটি বাড়িতে অন্য একটি মামলার তদন্তে গিয়ে ভয়াবহ এই ঘটনার সন্ধান পায় পুলিশ। ভিনটন কাউন্টির শেরিফ রায়ান কেইন বলেন, শিশুদের যে পরিবেশে রাখা হয়েছিল, তা এতটাই অমানবিক যে তাদের তুলনায় গবাদিপশুকেও ভালো অবস্থায় রাখা হয়। তিনি ঘটনাস্থলকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও নোংরা বলে বর্ণনা করেন।
ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুদের অবস্থা ছিল প্রায় বন্য প্রাণীর মতো। তাদের দেখে বোঝা যাচ্ছিল, দীর্ঘদিন তারা স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ শিশুকে একটি মাত্র সাড়ে তিন মিটার বাই সাড়ে তিন মিটারের ছোট কক্ষে রাখা হয়েছিল। বাড়ির চারপাশ ছিল আবর্জনায় ভরা। জানালাগুলো খেলনা, বাক্স ও নানা জিনিসপত্র দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। বাড়ির সামনের উঠানে পড়ে ছিল ভাঙা শিশুদের সাইকেল, পরিত্যক্ত বাক্স ও অন্যান্য বর্জ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এতগুলো শিশু ওই বাড়িতে থাকলেও তারা কখনও তাদের দেখতে পাননি। এক প্রতিবেশী বলেন, তার সন্তান ও নাতি-নাতনিরা নিয়মিত ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও সেখানে শিশু থাকার কোনো লক্ষণ কখনও দেখা যায়নি।
উদ্ধারের পর সাত শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণের জন্য ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে বিশেষ ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয় এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকজন শিশু ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না। ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী নিজের নামও লিখতে পারেন না। কোনো শিশুই বিদ্যালয়ে যেত না।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ তাদের প্রায় সবারই ভাষা ও যোগাযোগসংক্রান্ত গুরুতর সমস্যা রয়েছে।
এই ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সী গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, তার ৩৩ বছর বয়সী স্ত্রী এলিজাবেথ সাইডার্স, ৭৩ বছর বয়সী গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র এবং ৬৭ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা সাইডার্সের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা হলে তারা কেউই অভিযোগ স্বীকার করেননি। পরে বিচারক তাদের পক্ষে নির্দোষ দাবি নথিভুক্ত করেন।
তদন্তকারীরা মামলাটিকে পারিবারিক নির্যাতনসংক্রান্ত একটি জটিল মামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় সম্ভাব্য রক্তসম্পর্কীয় যৌন নির্যাতনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের আইন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, এলিজাবেথ সাইডার্স ২০০৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় গ্যারি সাইডার্স জুনিয়রকে বিয়ে করেন। সে সময় তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ওই সময় বিচারক ও অভিভাবকের সম্মতি থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হতো। আদালতের নথিতে দেখা যায়, এলিজাবেথের বাবা-মাও ওই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সাবেক প্রসিকিউটর টমি পোপ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত করুণ। এত অল্প বয়সে গর্ভধারণ ও বিয়ের মাধ্যমে এলিজাবেথ যেন নির্যাতনের একটি চক্রে আটকে গিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলিজাবেথের মোট ২০টি সন্তান জন্মেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে তিন জোড়া যমজ সন্তান ছিল। ২০২২ সালে জন্মের পর জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া দুই শিশুর মৃত্যু হয়। ফলে ওই বাড়ি থেকে জীবিত ১৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এলিজাবেথের আইনজীবী থমাস স্টলি জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ১৬ শিশুই এলিজাবেথের জৈবিক সন্তান।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, বাড়িটির অবস্থা এতটাই নোংরা ও আবর্জনায় ভরা ছিল যে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করাই সম্ভব হয়নি। তাদের মতে, পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের সবার চোখের আড়ালে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
এদিকে শিশু অধিকার ও আইনবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে, এত বড় একটি পরিবার বছরের পর বছর কীভাবে সরকারি নজরদারির বাইরে রয়ে গেল। একই সঙ্গে তারা জানতে চেয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক সরকারি ব্যবস্থাগুলো কেন এই নির্যাতনের ঘটনা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলো।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে। শিশু বিবাহবিরোধী সংগঠন ‘আনচেইন্ড অ্যাট লাস্ট’-এর পরিচালক ফ্রেইডি রিস বলেন, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে শিশু বয়সে বিয়ের ভয়াবহ পরিণতি কতটা মারাত্মক হতে পারে। তার মতে, আইনপ্রণেতাদের এখনই শিশু বিবাহ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বর্তমানে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীদের সব ধরনের বিয়ে নিষিদ্ধ করার একটি বিল আইনসভায় আটকে রয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায়ও শিশু বিবাহের আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ এটিকে শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে অভিভাবকদের অধিকার হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
তদন্ত এখনো চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক পুনর্বাসন এবং তাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলার পর মামলায় আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au