হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে: অস্ট্রেলীয় এমপি
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী…
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া সরকার পারিবারিক সহিংসতা ও যৌন অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে প্রথম এমন আইন। সরকারের দাবি, অনলাইন ডেটিংকে আরও নিরাপদ করা এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল কিয়াম মাহের সোমবার এ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তার দায় অপরাধীদের ওপরই বর্তাবে। যারা যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা বা শিশু যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাদের ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে আইন করা হবে।
২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব ক্রিমিনোলজির প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের একজন গত পাঁচ বছরের মধ্যে ডেটিং অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পরিচয় হওয়া কারও মাধ্যমে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এই গবেষণার পর থেকেই অনলাইন ডেটিং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
এই উদ্যোগের পক্ষে প্রচারণা চালানো অধিকারকর্মী লিসা স্ক্যানলন জানান, তিনি নিজেও অতীতে একটি সম্পর্কে জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণ, মানসিক নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার সাবেক সঙ্গী নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যে, যে কেউ তাকে আদর্শ মানুষ মনে করত। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি নির্যাতনের মাধ্যমে তার আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিসত্তাকে ভেঙে দেন। পরে একই ব্যক্তি ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে একের পর এক নতুন ভুক্তভোগী খুঁজে নিতেন।
স্ক্যানলনের ভাষায়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা বিসর্জন দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করেন। তাই এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ হওয়া জরুরি।
প্রস্তাবিত আইনে যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের অন্তত ১০ বছরের জন্য ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা আজীবনও হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, যৌন নিপীড়ন, জবরদস্তিমূলক যৌন আচরণ এবং সরাসরি সাক্ষাতে সংঘটিত সম্মতিবিহীন যৌন ছবি বা ভিডিও সংশ্লিষ্ট অপরাধও এই আইনের আওতায় আসতে পারে।
কিয়াম মাহের বলেন, কয়েক বছর আগে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় শিশু যৌন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের শিশুদের সঙ্গে কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নতুন আইনও একই নীতির ভিত্তিতে তৈরি হবে। অর্থাৎ অপরাধী নিজেই নিশ্চিত করবেন যে তিনি আইন ভঙ্গ করছেন না। যদি নিষিদ্ধ ব্যক্তি ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাহলে সেটিই একটি নতুন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
তবে তিনি জানান, আইনটির বিভিন্ন কারিগরি দিক এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকার দ্রুত এটি কার্যকর করতে চাইলেও আন্তর্জাতিক মানের একটি কার্যকর আইন প্রণয়নের জন্য সব দিক সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ভিকটিমস রাইটস কমিশনার সারাহ কুইক বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। কিন্তু সেই কারণে চেষ্টা না করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে যারা সম্পর্কভিত্তিক সহিংসতা চালায়, তাদের থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সম্পর্কের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতা সবচেয়ে ক্ষতিকর, কারণ এতে বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। মানুষ যেন পরিচিত অপরাধীদের ভয় ছাড়াই ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।
এই উদ্যোগের পেছনে অনলাইন ডেটিং শিল্পেরও সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়াম মাহের। তার ভাষ্য, জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ টিন্ডার ও হিঞ্জের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাচ গ্রুপ গত বছর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ দেখে প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন নিরাপত্তা সংস্কারে নতুন একটি বৈশ্বিক উদাহরণ তৈরির প্রস্তাব দেয়। এরপর গত এক বছরে এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য আইনটি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
লিসা স্ক্যানলন বলেন, এই আইন প্রণয়নের আলোচনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, কেবল আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ, আরও আইনি সংস্কার এবং অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করার মতো পদক্ষেপও সমানভাবে প্রয়োজন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au