মিরাজ শেখ নিখোঁজ: মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির প্রথম বড় পরীক্ষায় বিএনপি
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: উপকূলীয় জেলে মিরাজ শেখের কথিত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৪ সালের…
মেলবোর্ন, ২০ জুলাই: ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’ সোমবার (২০ জুলাই) দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে পুলিশ আটক করেছে। একই দিনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সংগঠনের দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা নাড্ডার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, “আমরা একটি চিঠি দিয়েছি। নাড্ডা আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা করবেন। সেই প্রক্রিয়া এখন চলছে।”
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করছেন।
এই দাবিতে সোমবার ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। দিল্লির জন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও তাদের সমর্থকেরা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদের দিকে মিছিলের চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
এর আগে রোববার দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি না দিয়ে এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা তীর্থসহ পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা যায় এবং অনেক যাত্রীকে বিকল্প পথে গন্তব্যে যেতে হয়।
এর আগে শনিবার আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) চলতি বছরের মে মাসে নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আন্দোলনের সমর্থকেরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ নামে পরিচয় দেন।
গত এক মাস ধরে আন্দোলনকারীরা দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের সদস্যও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুকের টানা অনশনে ইতোমধ্যে তার ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থতা সত্ত্বেও সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওয়াংচুক। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।
সফদরজং হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক হাতে লেখা বার্তায় ওয়াংচুক দাবি করেন, তাকে অবৈধভাবে আটক করে জন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবুও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওয়াংচুক। এ পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
নিজের বার্তায় ওয়াংচুক এই আন্দোলনকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম এবং তার ভাষায় ‘অবৈধ আটকের’ বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au