দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই মাসে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধার
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় একুরহুলেনি এলাকায় গত দুই মাসে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তেম্বিসার ভুসিমুসি এলাকায়…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করলেও, সেই চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীন। বিশ্লেষকদের মতে, তেল আমদানি কমানো, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৌশলগত মজুদ কাজে লাগানোর মাধ্যমে শুধু নিজেদের অর্থনীতিকেই সুরক্ষা দেয়নি বেইজিং, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং ইরান যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ায় বৈশ্বিক চাহিদার ওপর চাপ কমে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর পরপরই চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। প্রথমে বিশ্লেষকরা এটিকে মূল্যবৃদ্ধির প্রতি চীনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলেও, দীর্ঘ সময় ধরে দেশটি কীভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব ছাড়াই আমদানি কমিয়ে রাখতে সক্ষম হলো, তা অনেককেই বিস্মিত করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত চীনের তেল আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি কম ছিল।
অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের চীনবিষয়ক প্রধান গবেষক মাইকেল মিদান বলেন, চীনের তেলের চাহিদা কতটা কমতে পারে, সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিস্ময়। তবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির গতি ব্যাহত না করেই দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে কম আমদানি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে চীনের সরকার একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি নিজেদের কৌশলগত তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির পরিবর্তে কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া চীনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যাপক ব্যবহারের ফলে পেট্রোলের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম তেল আমদানি করলেও দেশটির সড়ক পরিবহন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ মূলত চীনের নিজস্ব অর্থনীতি রক্ষার জন্য নেওয়া হলেও এর সুফল বিশ্ববাজারেও পড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির চাপও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের অর্থনীতিবিদ রিড আইআনসন বলেন, সংকটপূর্ণ এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অন্যদিকে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র (সিএসআইএস)-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো জেন নাকানো মনে করেন, বর্তমানে বিশ্ব তেলের বাজারে চাহিদার সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু চীনের পদক্ষেপই নয়, বৈশ্বিক বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ধনী দেশগুলোর কৌশলগত তেলের মজুদ থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর রপ্তানি বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রুবি ওসমান বলেন, চীন মূলত নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপগুলো নিয়েছে। তবে এর ফলাফল আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
এদিকে বাজার পর্যবেক্ষকরা এখন নজর রাখছেন, চীনের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আবার বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে ফিরবে কি না। যদিও প্রাথমিক তথ্য বলছে, জুলাই মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানিতে সামান্য বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। তবে চীনের পরবর্তী সিদ্ধান্তই বিশ্ববাজারে তেলের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au