দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই মাসে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধার
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় একুরহুলেনি এলাকায় গত দুই মাসে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তেম্বিসার ভুসিমুসি এলাকায়…
রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পর্যটন অবকাঠামো ও সেবার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের আগমন ধারাবাহিকভাবে কমছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে বিদেশি পর্যটক এসেছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ জন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সংকলিত বিশেষ শাখা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি পর্যটক আগমনে এই পতন দেখা গেছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশে বিদেশি পর্যটক আগমন কমল।
এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ৬ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ১৪৫ জনে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কম।
ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের নানা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারছে না। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাকিম আলী বলেন, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে ভ্রমণ করেন। অন্যদিকে চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করছে, কারণ তারা এ দেশের পর্যটন বাজারের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। তাই অর্থের বহির্গমন কমানোর পাশাপাশি কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে এনে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তার মতে, বিদেশি পর্যটক বাড়াতে কার্যকর বিপণন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, ভালো পরিবহন ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত রেস্তোরাঁ এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইন্নোগ্লোব ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাসলিম আমিন শোভন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিদেশি পর্যটক কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস আগে বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। এখনও অনেক দেশ থেকে ভ্রমণের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
শোভনের ভাষ্য, গত আড়াই বছরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা চালু এবং বিমানবন্দরে তাদের সহায়তায় আলাদা ডেস্ক স্থাপনের জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেতে বিদেশি পর্যটকদের অনেক সময় লেগে যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এবং পর্যটন বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার দেব বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে বাংলাদেশকে মূল্য, মান ও সেবার ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যটক দেশীয়, আর মাত্র ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক পর্যটক বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে শক্তিশালী ডিজিটাল প্রচারণা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গল্প বলা, কিউআর কোড এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের প্রচারমূলক ভিডিও ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা যেতে পারে। পাশাপাশি অনলাইনে সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ই-ভিসা, স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন এবং নগদবিহীন লেনদেন চালু করলে বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতাও উন্নত হবে।
পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারও ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্ব পর্যটন দিবসের সরকারি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’, অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটনকে নতুনভাবে সাজানো।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার বলেন, পর্যটন খাতের মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে অবদান বর্তমানের ২ থেকে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে পর্যটন মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং পর্যটন খাতের প্রকৃত অবদান পরিমাপের জন্য পর্যটন স্যাটেলাইট হিসাব তৈরির কাজও চলছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে বিদেশি কূটনীতিক, ব্লগার, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন পর্যটন মেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশকে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় পর্যটনকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামো, নিরাপত্তা, সেবা ও আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে পিছিয়ে পড়ছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের পর্যটন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সুত্রঃ The Daily Star
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au