উচ্চশিক্ষায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা চান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন,৯ আগষ্ট: দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)ভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্কের সহায়তা চেয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ে সংস্থাটির মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা চান। বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্কের গুরুত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা বর্তমানে বৈশ্বিক জ্ঞানবিনিময়, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও দক্ষতাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলছে।
সার্কভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক সেশন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ পাবেন বলেও জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।
সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কার ও মানোন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক সচিবালয় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সার্ক সচিবালয়ের মধ্যে ভবিষ্যতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ।
বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সার্ক ধারণার অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়।