ডার্ক ওয়েব: তথ্য সুরক্ষায় ফাঁক শনাক্তেও ব্যর্থতা
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- বাংলাদেশে একের পর এক তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই এসব ঘটনা সময়মতো শনাক্ত করতে পারছে না। এতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত…
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতা জানাতে চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)। গত ২১ আগস্ট চালুর পর প্রথম দুই দিনে ওয়েবসাইটটিতে ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের মোট পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
ওয়েবসাইটটির উদ্যোক্তা সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ। বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দুই বন্ধু এটি তৈরি করেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের ঘুষ চাওয়ার বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে কোন দপ্তর বা সেবায় কত ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা।
তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অভিযোগকে যাচাই করা তথ্য বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দাবি করছে না ‘ঘুষ.সাইট’।
যেভাবে অভিযোগ জানানো যায়
অভিযোগ জানাতে ব্যবহারকারীকে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল, এই পাঁচ ধরনের তথ্য দিতে হয়। চাইলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণও যোগ করা যায়।
অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে শেষ করা যায়। তবে কোনো ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ নেই।
উদ্যোক্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং কোন সরকারি দপ্তর বা সেবাকে ঘিরে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ বেশি আসছে, সেটি তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তা সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না। প্রথমে মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সরানো হয়। আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট বা ওয়েবসাইটের নীতিমালা ভঙ্গ করে এমন অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। এরপর গ্রহণযোগ্য অভিযোগ প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত তথ্যে বিভাগ, দপ্তর, সেবার ধরন, চাওয়া অর্থের পরিমাণ এবং ঘুষ দেওয়ার পর কী ঘটেছে, সেসব তথ্য দেখা যায়।
ঢাকায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ
উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই দিনে জমা পড়া ৮০৪টি অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি ঢাকা বিভাগের। এরপর চট্টগ্রামে ১৬৭টি, রাজশাহীতে ৪৪টি, খুলনায় ৪৩টি, সিলেটে ৩৮টি, রংপুরে ৩৭টি, ময়মনসিংহে ৩০টি এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগকারীদের ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকে প্রমাণ হিসেবে দেখছে না সাইটটি
‘ঘুষ.সাইটে’ জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে সত্যতা যাচাই করা হয় না। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্টের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ উল্লেখ থাকে।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ঘুষ.সাইট কোনো অভিযোগকে নিশ্চিত সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করছে না। এটি কোনো তদন্ত সংস্থাও নয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প হওয়ার দাবিও করছে না। নাগরিকদের অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে ঘুষের অভিযোগের একটি উন্মুক্ত রেকর্ড তৈরি করাই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য।
নিজস্ব অর্থে চলছে উদ্যোগ
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নিজেদের অর্থেই ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছেন তাঁরা। কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই এবং বাইরের কোনো অর্থায়নও নেওয়া হয়নি। তবে সাইটে স্বেচ্ছা অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের একজন সাইফ কবির প্রথম আলোকে বলেন, ওয়েবসাইটে কত মানুষ প্রবেশ করলেন, শুধু সেটিকে তাঁরা সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন না। বরং সরকারি সেবা নিতে যাওয়ার আগে একজন নাগরিক যদি অন্যদের অভিজ্ঞতা দেখে কোথায় কত টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তা জানতে পারেন এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটিকেই তাঁরা এই উদ্যোগের সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au