শুল্ক বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি কানাডার
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ আরও বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রধান…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তাঁর এই সফর হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের ঘোষণা না এলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, শি জিনপিং প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ভারত সফরের সময় তাঁর সঙ্গে প্রায় ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল ছিল। এবার বড় বহর নিয়ে তাঁর সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের সফরটি সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সফর নয়। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিও সফরে গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে শি জিনপিংয়ের সফরের জন্য হোটেল নির্বাচন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। তবে তাঁর পূর্ণাঙ্গ সফরসূচি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর বড় একটি অংশ এখনো অচিহ্নিত ও বিতর্কিত। ২০২০ সালে সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় সামরিক উত্তেজনা চলতে থাকে। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেনা প্রত্যাহারের একটি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়।
তবে সীমান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক সময়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। গত ১২ আগস্ট ভারত জানিয়েছিল, জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীনের টহল দলের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। নয়াদিল্লি বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। এর ফলে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। ব্রিকসের বর্তমান সভাপতি ভারতকে সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে চীন সমর্থন করছে। তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সম্পর্কে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ মুহূর্তে তাদের কাছে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফর করেছিলেন। তবে এরপরও দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও চীন সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে ভারত ও চীনের মধ্যে কিছু অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au