শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায় সোমবার, হাইকোর্টে শুনানি পেছাল
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার দিন…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- কিশোরগঞ্জ, বগুড়া ও সিলেটে পৃথক ঘটনায় তিন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাতে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আল আমিন সৈকত, বগুড়ায় সাইফুল ইসলাম এবং সিলেটে সাহাব উদ্দিন রয়েছেন। পৃথক এসব ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আল আমিন সৈকত (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের টিন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান।
আল আমিন সৈকত পৌর শহরের আড়াই ব্যাপারী বাড়ির মৃত জসিম মিয়ার ছেলে। তিনি ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে রানীর বাজার শাহী মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় ফিরছিলেন আল আমিন। পথে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুজন তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় পৌঁছালে আল আমিনের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, তার স্বামী রাজনৈতিক ও জমিসংক্রান্ত পারিবারিক মামলায় কারাভোগ করেছিলেন এবং তার অনেক বিরোধী ছিল। বাসায় ফেরার পথে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া সদর উপজেলার আশোকোলা এলাকায় সাইফুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম আশোকোলা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে সাইফুল ইসলাম বাঘোপাড়া বন্দর মোড় এলাকায় চা খেতে যান। পরে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বাঘোপাড়া ব্রিজের কাছে কয়েকজন তার পথরোধ করে।
এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলাকারীরা রামদা দিয়ে সাইফুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাবিয়া বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সোমবার সদর থানায় মামলা করেছেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে রাকিব, রমজান ও নিঝুমের নাম উঠে এসেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) থানা এলাকায় সাহাব উদ্দিন (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাতে নিজ বাসার পাশেই তাকে হামলা করা হয়।
সাহাব উদ্দিন শাহপরান থানার ইসলামাবাদ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মাদরাসা রোডে তার একটি দোকান রয়েছে। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের ইজ্জত আলীর ছেলে।
নিহতের ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, রোববার রাতে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে জানান, তার বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাহাব উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
শাহপরান (রহ.) থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে সাহাব উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। তার কাছে টাকা ও মোবাইল ফোন থাকলেও সেগুলো নিয়ে যায়নি হামলাকারীরা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণে সাহাব উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au