শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায় সোমবার, হাইকোর্টে শুনানি পেছাল
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার দিন…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয়প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, এমন বিদেশিদের প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করা হবে, যারা ব্যবসা বা পর্যটনের মতো স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পাওয়া মার্কিন সরকারি নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল হতে পারে। যাদের ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি-১ ও বি-২ ভিসা রয়েছে এবং যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন, তাদের ভিসা বাতিলের আওতায় আনা হতে পারে।
বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটনের জন্য দেওয়া হয়। তবে ভিসা বাতিল করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবাইকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে না।
যেসব ব্যক্তির আশ্রয়ের আবেদন এখনো বিচারাধীন, তাদের ক্ষেত্রে মূলত ভিসার ধরন পরিবর্তন হতে পারে। অর্থাৎ তারা আশ্রয়ের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে ব্যবসা বা পর্যটনের ভিসাধারী হিসেবে তাদের অবস্থান থাকবে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ করে আসছেন। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও বলেছেন, দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদনের কারণে চাপে রয়েছে।
এর আগে চলতি মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে। নতুন করে প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিলের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি আরও বিস্তৃত হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। এর মধ্যে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল, ধরপাকড় এবং বহিষ্কার অভিযান রয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে।
এসব নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেও একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে। ফলে প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন আইনি বিতর্কও তৈরি করতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au