শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায় সোমবার, হাইকোর্টে শুনানি পেছাল
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার দিন…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে কেন্সকফ এলাকায় রাতভর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাতে চালানো এই হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ২৪ আগস্ট রাতে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছের পাহাড়ি জনপদ কেন্সকফে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এলাকাটি রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি পথের কাছে অবস্থিত। জাতিসংঘের হাইতিবিষয়ক ইন্টিগ্রেটেড অফিস জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলার স্থানটি একটি পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের রক্ষা করতে পারেনি। হামলার সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারাও রয়েছেন।
হাইতির মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা শুরু হয়। তাদের প্রাথমিক হিসাবে, এতে ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। পরে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে।
হাইতি সরকার হামলাটিকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কেন্সকফকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না এবং এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার পুলিশপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
কেন্সকফে গত বছর থেকেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলার কারণে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। হামলায় হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রায় দুই মাস ধরে কেন্সকফ এলাকায় চালানো হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২০০টি বাড়ি ধ্বংস বা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, ওই সময় প্রায় ৩ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
সাম্প্রতিক হামলার পর কেন্সকফ পরিদর্শনে যান হাইতির জাতীয় পুলিশপ্রধান ভ্লাদিমির প্যারাজন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ ও সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।
এদিকে নতুন করে সহিংসতা আগামী ডিসেম্বরে হাইতিতে নির্বাচন আয়োজন নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে দেশটিতে এবার প্রথম নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নির্বাচন কতটা নিরাপদে আয়োজন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের সমর্থনে গঠিত একটি গ্যাং দমন বাহিনী হাইতির পুলিশকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করছে। চলতি বছর এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কেন্সকফের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au