ডার্ক ওয়েব: তথ্য সুরক্ষায় ফাঁক শনাক্তেও ব্যর্থতা
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- বাংলাদেশে একের পর এক তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই এসব ঘটনা সময়মতো শনাক্ত করতে পারছে না। এতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব বা স্কার্ফ পরার অনুমতি চেয়ে করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ড্রেস কোডের সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী অতিরিক্ত পোশাক যুক্ত করার আইনি অধিকার কোনো শিক্ষার্থীর নেই।
প্রয়াগরাজের একটি বেসরকারি স্কুলের এক ছাত্রীর পক্ষে তার মা এই রিট আবেদন করেন। দশম শ্রেণি পাস করার পর ওই ছাত্রী একই স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেন। পাশাপাশি স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে স্কার্ফ বা হিজাব পরার অনুমতি চান তিনি। আবেদনে বলা হয়, ছাত্রীটি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই স্কুলে হিজাব পরে আসছেন এবং এটি তার ধর্মীয় বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গত ২১ আগস্ট বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই মামলার রায় দেন।
শুনানির সময় আদালত ওই ছাত্রীর বিভিন্ন সময়ের ছবি পর্যালোচনা করেন। আদালত বলেন, একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আরও কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী ওই স্কুলে পড়াশোনা করলেও তাদের মধ্যে ওই ছাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে স্কার্ফ বা হিজাব পরতে দেখা যায়নি।
হিজাব পরা ইসলামী বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ, আবেদনকারীর এই যুক্তিও আদালত গ্রহণ করেননি। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের বিষয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টের আগের সিদ্ধান্তগুলোতে হিজাবকে নারীদের জন্য এমন অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, যার অনুপস্থিতিতে ধর্মীয় বিশ্বাস ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আদালত আরও বলেন, আবেদনকারীর দাবির পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করা হয়নি।
এলাহাবাদ হাইকোর্ট আরও বলেন, বেসরকারি ও স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম ও ড্রেস কোড চালু করতে পারে। সেই পোশাকবিধি যদি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিন্নতা বজায় রাখার জন্য প্রযোজ্য হয়, তাহলে তা কার্যকর করার অধিকার প্রতিষ্ঠানের রয়েছে।
আদালতের মতে, সব শিক্ষার্থীর জন্য একই ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পোশাক যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হলে ইউনিফর্মের অভিন্নতার উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
মামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি একটি বেসরকারি ও স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। তাই একজন শিক্ষার্থীকে ড্রেস কোডের বাইরে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধির অভিন্নতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই রিট আবেদনের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার ও ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনও। শুনানি শেষে এলাহাবাদ হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে স্কুলের নির্ধারিত ড্রেস কোড বহাল রাখেন।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au