বাড়িতে পানি দিয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তাদের বাড়িতে পানি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের বরফ ও বিশাল শিলাখণ্ড ধসে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বুধবারের এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি নেপাল ও তিব্বতজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশের অন্তত ৮০০ নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্যোগটি নেপালের অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে তিব্বতের রাজধানী লাসা ও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানে। ওই সময় দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক হাইকার, ট্র্যাকার এবং কৈলাশ-মানস সরোবরগামী হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থী অবস্থান করছিলেন।
নেপাল পুলিশ ও পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন।
অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতেই ২৫০ জন বিদেশিসহ মোট ৫৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভয়াবহ কাদার স্রোত মুহূর্তের মধ্যে তিব্বত-নেপাল সীমান্তের একটি ক্রসিং এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বহুতল ভবন, ধাতব সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ থেকে বেঁচে যাওয়া ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল জানান, বিশাল কাদার স্রোত তাদের দিকে ধেয়ে এলে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার চোখের সামনে স্ত্রী কাদার স্রোতে তলিয়ে যান। প্রায় চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে করে তাকে উদ্ধার করা হলেও স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, তিনি একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান। সেখান থেকে তিনি তার কর্মস্থলের একটি ভবন কাদার নিচে তলিয়ে যেতে দেখেছেন।
প্রথমদিকে ঘটনাটিকে ভূমিকম্প বলে ধারণা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক বিশ্লেষণে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির মতে, ৪ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পনটি সম্ভবত পাহাড় থেকে বরফ ও বিশাল শিলাখণ্ড ধসে পড়ার ফলে সৃষ্টি হওয়া কম্পন। হিমবাহ ধসে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর সৃষ্ট প্রবল পানির চাপ থেকেই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্গত এলাকায় নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৫ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় খাদ্য, তাবু ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নেপালের জন্য জরুরি ত্রাণ হিসেবে ৫ লাখ ডলার সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘ ও ভারতও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানো শুরু করেছে।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ভয়াবহ এ দুর্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিব্বতের উজানে একটি কৃত্রিম হ্রদে বিপুল পরিমাণ পানি আটকে থাকায় নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গত এলাকাগুলোতে নতুন করে বিপর্যয়ের ঝুঁকিও পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
সুত্রঃরয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au