শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তাদের বাড়িতে পানি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভুল করে পানির মোটর চালু হয়ে যাওয়ায় ট্যাংকি উপচে ছাদে পানি পড়েছিল। আলামত নষ্ট করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
বুধবার রাতে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ তোলা হয়। সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাস সাংবাদিকদের বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির লাইট বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পানি ঢেলে বাড়ি ধুয়ে আলামত নষ্ট করা হয়েছে। তার ভাই সিদ্ধার্থ দাসকে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুল হাকিম অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, বাড়ির লাইটের সুইচ চালু করতে গিয়ে ভুল করে পানির মোটরের সুইচও চালু হয়ে যায়। পরে ট্যাংকিতে পানি পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মোটর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে বাড়ির ছাদে পানি পড়ে। আলামত নষ্ট করার অভিযোগ সঠিক নয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা রয়েছে। লাইটের সুইচ অন করতে গিয়ে ভুলবশত পানির মোটরও চালু হয়ে যায়। পুলিশ বাড়ির ভেতরে কোথায় কী রয়েছে, তা না জানায় ট্যাংকি থেকে পানি উপচে ছাদে পড়ে যায়।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আলামত নষ্ট করার অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। মরদেহ উদ্ধারের সময়ই প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাই পানি পড়ার ঘটনাকে আলামত নষ্টের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত শনিবার রাতে রংপুরের মাছুয়াপাড়ার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ছিলেন স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম পড়ত পঞ্চম শ্রেণিতে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে শুরু থেকেই পুলিশের দেওয়া হত্যাকাণ্ডের কারণ ও দুই তরুণের সম্পৃক্ততার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত পরিবারের স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর মধ্যে বাড়িতে পানি পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলামত নষ্টের নতুন অভিযোগ ওঠায় তদন্ত নিয়ে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হলেও প্রাথমিকভাবে আলামত নষ্ট করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।