ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১০০-এর বেশি
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১০ জন রোগী দেশের…
চীনে ব্যবসায়িক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হওয়ায় ভারতের দিকে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যাংকিং, খুচরা ব্যবসা, গাড়ি, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভারতে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে।
ভারতের বড় ও দ্রুত সম্প্রসারিত বাজারকে জাপানি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জাপান সফর করে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন। সফরে তিনি ভারতের বড় একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
ভারতের প্রধান শহরগুলোতেও জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। ইউনিক্লো, মুজি ও ওনিতসুকা টাইগার ইতোমধ্যে দেশটির বাজারে ব্যবসা করছে। পাশাপাশি জাপানের আসবাবপত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিতোরি ভারতে কার্যক্রম শুরু করেছে। জনপ্রিয় খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান লসনও ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে।
ভারতের আর্থিক খাতেও জাপানি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। জাপানের বৃহৎ ব্যাংক এমইউএফজি গত বছর ভারতের শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। প্রায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি ভারতের আর্থিক খাতে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একই সময়ে সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ারের মালিক হয়ে দেশটির অন্যতম বড় শেয়ারধারীতে পরিণত হয়।
প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রেও ভারতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে। ডেলয়েটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ১০০টির বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক কৌশল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অন্যতম কারণ দেশটির বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার। জাপানের জনসংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে কমছে, ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বাজারের আকারও সংকুচিত হচ্ছে। এ কারণে জাপানি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য বিদেশি বাজারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। সম্প্রতি সুজুকি মোটর করপোরেশন ভারতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে চীনে ব্যবসার পরিবেশ আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীনে জাপানি বিনিয়োগের আকর্ষণ কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও শুল্ক ও স্থানীয় প্রতিযোগিতার কারণে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জাপানি কোম্পানির উপস্থিতি থাকলেও সেসব দেশের বাজার ভারতের তুলনায় ছোট।
ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। প্রায় দেড় দশক আগে দুই দেশ বাণিজ্য উদারীকরণ নিয়ে চুক্তি করে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়। এর ধারাবাহিকতায় মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে দুই দেশ সহযোগিতা করছে। এ প্রকল্পে জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারত ও জাপানের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতাও নতুন গতি পেয়েছে। জুলাইয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেমিকন্ডাক্টর, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে এসব বিনিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, জাপান তা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো চীন ছেড়ে একযোগে ভারতে চলে আসছে, বিষয়টি এমন নয়। বরং ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো, সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ রাখা এবং নতুন বাজার তৈরির ক্ষেত্রে ভারত জাপানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে।
ভারতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে। করব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, জমি ও পরিবেশগত অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরির মতো বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ। এসব সমস্যা কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ করতে পারলে ভারত জাপানি বিনিয়োগের আরও বড় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au