ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৫। ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে র্যাবের এক সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি, বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, কালো স্কচটেপ, একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বনানী থানাধীন এ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের খায়ের প্যালেসের সামনে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির গুলশান বিভাগ প্রায় ৪৫ সদস্যের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মাসুদ রানা (২৯), মো. রাজিব হাওলাদার (৩০), হাফিজুল মাতব্বর (২৪), মোহাম্মদ শাকিল হোসেন (২৪) ও মো. বাদল (৪২)।
ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার মো. মাসুদ রানা বর্তমানে র্যাবের সদস্য হিসেবে কর্মরত। তিনি র্যাব সদর দপ্তরের ডগ স্কোয়াড বিভাগে সৈনিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অভিযানের সময় অন্যদের সঙ্গে তাকেও ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকালে ঘটেছে এবং ডিবি তাৎক্ষণিকভাবে মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে র্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিবি সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তারের সময় পাঁচজনের কাছে ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য এসব সরঞ্জাম ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনের পাশাপাশি পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত হ্যান্ডকাফ এবং ওয়াকিটকি পাওয়ায় ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তারা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস কোথায় এবং এর আগে তারা কোনো অপরাধে জড়িত ছিল কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে র্যাবের একজন সদস্যের উপস্থিতি এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় তাদের ভূমিকা ও সম্ভাব্য অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।