আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই ভারতের কাছে। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও শুক্রবার পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না এবং তিনি না গেলে অন্য কেউ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না, জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।
ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার জন্য আগেই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরই এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তবে দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলার সময়ই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে। বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এ কারণে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ব্রিকস সম্মেলন শুরু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও তাই ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তারেক রহমান দিল্লিতে না গেলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অন্য কোনো মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে তৈরি হওয়া অস্বস্তি নতুন নয়। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ সরকার ওই বক্তব্যকে দেশ ও সরকারবিরোধী প্রচারণা হিসেবে দেখেছে এবং এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এর পর শেখ হাসিনাকে সংযত রাখার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আরেকটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তির অংশ নেওয়ার কথা ছিল বলে জানা যায়। ফলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি আবারও সামনে আসে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এসব সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সমঝোতা আছে কি না, তা নিয়ে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।
শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে এসব সাক্ষাৎকার নিয়েও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। তবে কোনো প্রশ্নেরই বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি রণধীর জয়সোয়াল।
এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়টিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো বক্তব্য আছে কি না। জবাবে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।
অন্য এক সাংবাদিক শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানতে চান, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তার কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না এবং এ নিয়ে নেপথ্যে কোনো আলোচনা চলছে কি না। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার মতো কয়েকটি বিষয় সামনে এনেছেন বলেও সাংবাদিক উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কোনো কিছু জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ সম্পর্কেও তাঁর কিছু জানা নেই।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে ঢাকা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সম্মেলনে যোগ দেন কি না, নাকি বাংলাদেশ অন্য কোনো প্রতিনিধিকে পাঠায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au