পটুয়াখালীতে হিন্দু ব্যবসায়ীকে ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে’ মারার হুমকি বিএনপি নেতার
পটুয়াখালীর বাউফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীকে ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে’ হত্যার হুমকি দেওয়ার…
মাসের পর মাস গ্রিনল্যান্ড দখলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকির পর এবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সমাধান হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো কিংবা সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না, যদি না যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমোদন থাকে।
তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত এলাকায় বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ কাজে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গেও সহযোগিতা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাদের বক্তব্যে ট্রাম্পের দাবি করা ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের’ বিস্তারিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়নি।
ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তিটি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও এতে বহাল থাকবে।
নিলসেন বলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং এতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থের স্বীকৃতি রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডে জনবসতি কম হলেও কৌশলগতভাবে অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: আইস্টক
চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে কার্যকর হওয়ার আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ডেনমার্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। ট্রাম্প এর আগে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড অবশ্য বারবার বলে এসেছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
নতুন চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনেই থাকছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পাবে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থান এবং রাশিয়ার কাছাকাছি হওয়ায় দ্বীপটির সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
শীতল যুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা ছিল। বর্তমানে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস রয়েছে। এই ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়।
প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। বিশাল আয়তনের বিপরীতে এর জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫৬ হাজার।
নতুন চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প এটিকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সমঝোতা হিসেবে তুলে ধরলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এতে বহাল থাকবে।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au