কঙ্গোতে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৪
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই জেনারেলসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং…
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া উ। তাঁর মতে, তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশটির উন্নত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মাধ্যমে বিশ্বকে চিপ সরবরাহ অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
শনিবার তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রাঁসোয়া উ এসব মন্তব্য করেন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বৈঠক শেষ হওয়ার পর তাইওয়ান ইস্যুতে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি চিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়। তিন দিনের এই বৈঠকে তাইওয়ানসহ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের পর তাইওয়ান ইস্যুতে বড় কোনো সমঝোতা বা নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বৈঠকের সময় শি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতায় ‘সঠিক অবস্থান’ অনুসরণ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের এই সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাইওয়ানের নিজস্ব সরকার, সামরিক বাহিনী ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে।
এরপর তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া উকে প্রশ্ন করা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দিলে সেটি দেশটির স্বার্থ রক্ষা করবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাইওয়ানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তাইওয়ান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। একই সঙ্গে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর শিল্পও বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
ফ্রাঁসোয়া উ বলেন, তাইওয়ানকে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা দেওয়া এবং দেশটির সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে বিশ্বের জন্য অবদান রাখার সুযোগ দেওয়া, দুটিই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাইওয়ান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উন্নত চিপের বড় অংশ তাইওয়ানে তৈরি হয়। ফলে তাইওয়ানের চিপ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল থাকা বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
এ কারণে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে গত মে মাসে বেইজিংয়ে শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত একটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ তিনি সাময়িকভাবে আটকে রেখেছেন। তবে ওয়াশিংটনে শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্প নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।
রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা দ্বীপটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি প্রস্তাবিত অস্ত্র চুক্তিও আটকে রয়েছে।
ফ্রাঁসোয়া উ বলেন, শি চিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে তাইওয়ান সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে সেটি তাইওয়ানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিকে চীনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান সম্পর্ক আইনও অপরিবর্তিত রয়েছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডেভিড পারডিউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায় এবং কোনো পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চায় না। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং ট্রাম্প চীনের বক্তব্য ও যুক্তিও শুনেছেন।
চীনের অবস্থানও এখন পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়নি। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাইওয়ান চীনের অংশ এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অধিকার চীন রাখে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও স্বশাসন বজায় রেখে বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ফলে তাইওয়ান ইস্যুটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় হয়ে রয়েছে। শি চিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় এলেও অস্ত্র বিক্রি বা তাইওয়ান ইস্যুতে বড় কোনো সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। আগামী দিনগুলোতে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে চীন, তাইওয়ান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au