নিজের আহত স্বামীকে দেখতে নাসের হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডক্টর আলা। ছবি: আল-জাজিরা
মেলবোর্ন, ২৫ মে- গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আলা আল-নাজ্জারের ৯ শিশু সন্তান। স্থানীয় নাসের হাসপাতাল জানায়, হামলায় তার স্বামী এবং আরেক সন্তান আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন।
হাসপাতালটির ব্রিটিশ সার্জন গ্রেইম গ্রুম বলেন, “এটা অকল্পনীয় নিষ্ঠুরতা। যিনি জীবনভর শিশুদের চিকিৎসা করেছেন, সেই মা এক হামলায় নিজের প্রায় সব সন্তান হারালেন।”
গ্রুম জানান, বেঁচে যাওয়া ১১ বছর বয়সী ছেলেটিকে অপারেশন করেন তিনি। যার একটি হাত ঝুলছিল এবং শরীরজুড়ে ছিল স্প্লিন্টারের আঘাত।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ দাবি করেছে, খান ইউনিস এলাকায় ‘একটি ভবন থেকে সক্রিয়’ সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ‘নিরীহ বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে কিনা, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আলবুর্শ বলেন, “হামলার সময় ডা. আলা আল নাজ্জর কর্মস্থলে ছিলেন, এবং তার স্বামী কিছুক্ষণ আগেই তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরেছিলেন।”
নাসের হাসপাতালের পক্ষ থেকে শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৮ শিশু নিহত হয়েছে। পরে তা সংশোধন করে ৯ জন বলা হয়। নিহতদের মধ্যে বড়জনের বয়স ছিল ১২ বছর।
এক সাক্ষাৎকারে পরিবারের আত্মীয় ইউসুফ আল-নাজ্জার বলেন, “আর কতো? আমাদের ওপর দয়া করুন! আমরা ক্লান্ত, আমরা ক্ষুধার্ত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমরা করুণ আবেদন জানাচ্ছি – দয়া করে আমাদের প্রতি সদয় হোন।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার বলেন, “গাজার মানুষ সম্ভবত এই যুদ্ধের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পর্যায় পার করছে।” তিনি মার্চ মাস থেকে আরোপিত ইসরায়েলি অবরোধের নিন্দা জানান।
সম্প্রতি ইসরায়েল কিছুটা অবরোধ শিথিল করলেও জাতিসংঘ বলছে, প্রতিদিন গাজায় ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করা দরকার। অথচ শুক্রবার মাত্র ৮৩টি ট্রাক প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে ছিল আটা, খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী।
সংকট এতটাই গভীর যে খাদ্য নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে অনেকেই। এরপরেও ত্রাণবাহী কনভয়গুলোর সামনে ভিড় করছে হাজার হাজার মানুষ।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল বলছে, অবরোধের উদ্দেশ্য হলো গাজায় বন্দি থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি আদায়ে হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তাদের অভিযোগ, হামাস ত্রাণ সামগ্রী চুরি করছে – যদিও হামাস তা অস্বীকার করেছে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৯০১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যাদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ শিশু।
তবে গাজার গণমাধ্যম অফিস বলছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কারণ ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একদমই নেই।