লিড নিউজ

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ দমনে কঠোর ট্রাম্প, ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন

  • 4:43 am - June 09, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২০৮ বার
শনিবার (৭ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেস কম্পটনে অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় আটলান্টিক অ্যাভিনিউ এবং ই আলোন্ড্রা ব্লাভডের সংযোগ সড়কে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এসময় মেক্সিকোর পতাকা হাতে একজনকে দেখা যায়। ছবি: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

মেলবোর্ন, ০৯ জুন— ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শহরটিতে ইমিগ্রেশনবিরোধী অভিযানের জেরে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুক্রবার থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) পরিচালিত একাধিক অভিযানের পর উত্তেজনা শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে, ফেডারেল ভবনের সামনে আগুন জ্বালায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারে। বেশ কিছু সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়ায় ৭ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার কম্পটনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। ছবি: সিবিএস নিউজ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে স্থানীয় পুলিশ এবং পরে হাইওয়ে পেট্রোল মোতায়েন করা হলেও তা যথেষ্ট না হওয়ায় ফেডারেল হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসে।

শনিবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবসতিপূর্ণ এই শহরে ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি’ ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনে সক্রিয় সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হতে পারে। তিনি বলেন, “নিকটবর্তী ক্যাম্প পেন্ডেলটনে অবস্থানরত মেরিন সেনারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।”

রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘টাইটেল ১০’ ধারা কার্যকর করে ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডকে সরাসরি ফেডারেল কন্ট্রোলে আনেন। এই ধারা কার্যকর হলে রাজ্যের গভর্নর আর সেনাদের কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না।

হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, “সরকারি স্থাপনায় হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর সহিংসতা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সামাজিক এক্স-এ লেখেন, “এটা একটা ফেডারেল নাটক। শহরকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার প্যারামাউন্টে অভিবাসন বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস বোমা ছোঁড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। ছবি: গেটি ইমেজ

নিউসাম বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবে না। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করো।”

পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর।

শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব লস অ্যাঞ্জেলেসের প্যারামাউন্ট এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ফেডারেল এজেন্টরা।

এর আগের দিন আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সংস্থা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৪ জনকে আটক করে। এদের বিরুদ্ধে অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে।

অভিযানের পর একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ হয়। এতে অংশ নেওয়া অনেকে মেক্সিকোর পতাকা ওড়ান এবং মুখে মাস্ক পরে স্লোগান দেন। ভবনের দেয়ালে গ্রাফিতি লেখার ঘটনাও ঘটে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস অভিযোগ করেছেন, “এই মোতায়েন আমাদের অভিবাসী কমিউনিটিকে ভয় দেখাতে এবং দমন করতে করা হয়েছে। আমাদের শহরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে।”

বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করছে নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে গভর্নর ও মেয়রের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “যদি গভর্নর নিউসাম ও মেয়র ব্যাস দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে ফেডারেল সরকার হস্তক্ষেপ করবে।”

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজিল্যান্ড জর্ডান বলেন, ১৯৯২ সালে রডনি কিংকে মারধরের ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষবার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল।

ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নরের দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘টাইটেল ১০’ ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ডের একটি অংশকে ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এতে এখন ওই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের হাতে না থেকে ফেডারেল সরকারের অধীনে।

নিউসাম বলেন, “বর্তমানে কোনো জরুরি প্রয়োজনে ঘাটতি নেই। এই সিদ্ধান্ত জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।”

অভিবাসন দমন অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার অভিবাসীকে আটক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই অভিযানে বৈধ অভিবাসীরাও ধরপাকড়ের মুখে পড়ছেন বলে বিভিন্ন আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ তুলেছে।

এই শাখার আরও খবর

পবিত্র মদিনা নগরী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় পবিত্র মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক…

নিখোঁজের দুই দিন পর বাগান থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর মোসাম্মৎ ইসরাত জাহান যুথি (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া…

ইরানকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে সামরিক চাপের মধ্যে থাকলেও ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টারে ব্যবহারযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা রুশ…

নির্বাচনে ভরাডুবির পর ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসছেন ট্রাম্পের মিত্ররা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে দলটির…

বিশ্ববাজারে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে, এমন প্রত্যাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের…

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আগেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্র ভাঙতে ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণাকে সামনে রেখে দেশটিতে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাত ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান। তাঁর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au