যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান
প্রশান্ত মহাসাগরীয় গুয়াম ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান। শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার সম্ভাব্য প্রস্তুতির অংশ কি না—তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে ২-৪টি বি-২ বোমারু এবং ৬টি রিফুয়েলিং বিমান গুয়ামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এসব বিমান ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত এই দ্বীপটি ইরান থেকে মাত্র ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের জন্য তা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানগুলিই একমাত্র প্ল্যাটফর্ম যা ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা বহন করতে সক্ষম এবং ফোরদোর মতো পাহাড়ের নিচে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। ইরানের এই স্থাপনাটি কোম শহরের কাছাকাছি একটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত এবং এটি ইরানের অন্যতম গোপন পারমাণবিক কেন্দ্র বলে পশ্চিমা গোয়েন্দারা মনে করে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি দিয়েগো গার্সিয়া থেকে আক্রমণ চালাতে চায়, তবে ব্রিটেনের অনুমতি প্রয়োজন হবে। কিন্তু গুয়াম থেকে যেহেতু এটি মার্কিন ভূখণ্ড, তাই অতিরিক্ত অনুমতি ছাড়াই বিমান হামলা চালানো সম্ভব।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানে হামলা চালানো হবে কি না সে বিষয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইঙ্গিত দিলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
তবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে ইসরায়েল এককভাবে ফোরদোতে গোপন অভিযান চালাতে পারে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানান। এ নিয়ে তেলআবিবে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির জানান, অভিযান কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েল প্রয়োজন হলে ফোরদোসহ সব পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সব লক্ষ্য অর্জন করব। আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে। তবে ট্রাম্প যুক্ত হবেন কি না, তা একান্তই তার সিদ্ধান্ত।”
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে (যেমন: রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট, বাণিজ্য চুক্তি ইত্যাদি) সময়সীমা নির্ধারণ করেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত বা পরিবর্তন করেছেন। তাই ইরান প্রসঙ্গে তার ঘোষণা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, গুয়ামে বি-২ মোতায়েন শুধুই একটি সতর্কতা, নাকি এর মাধ্যমে ফোরদোতে একটি বাস্তব হামলার ঘনঘটা শুরু হয়েছে।