ইরানের আহওয়াজ শহর থেকে ধরা পড়া একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য। সূত্র: বিবিসি, এপি
মেলবোর্ন ২২ জুন- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোর্ডো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান শহরের পারমাণবিক স্থাপনায় সফলভাবে বোমাবর্ষণ করেছে।
তিনি জানান,
“আমাদের বিমানগুলো এখন ইরানের আকাশসীমা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে এবং হামলাগুলো অত্যন্ত সফল হয়েছে।”
এর আগে খবর পাওয়া যায়, যুক্তরাষ্ট্র গুয়ামে অবস্থানরত বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান পাঠিয়েছে। এই বিমানগুলোই একমাত্র ফোর্ডোর মতো গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসে সক্ষম। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে রাতভর তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানে একাধিক “অস্ত্র গুদাম” ও “সামরিক অবকাঠামো” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইস্তাম্বুল সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের তিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সাঈদ ইজাতি — যিনি ৭ অক্টোবর হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে বিবেচিত।
বিবিসি ভেরিফাই তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কেন্দ্রীয় শহর ইসফাহানে একটি পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধরা পড়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ৪০০ জনের বেশি নিহত ও ৩,০৫৬ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে, ইসরায়েলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৫ জন নিহত ও ২,৫১৭ জন আহত হয়েছে।
প্রেক্ষাপট:
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্ব নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন, পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার রাষ্ট্র-যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।