মেলবোর্ন, ২৫ জুন- যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে যে তিনি “খুশি নন” তা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার মন্তব্যকে বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসি সংবাদদাতা বার্নড ডেবুসম্যান জুনিয়র।
ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির এই সাংবাদিক বলেছেন, “আমি আমার দিনের বেশিরভাগ সময় হোয়াইট হাউসে কাটাই। প্রায়শই প্রেস পুলের অংশ হই বা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময়ে তার সঙ্গে ভ্রমণ করি।”
“আজ সকালে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তেমনটি করতে আমি খুব কমই দেখেছি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার রাগের মুহূর্তগুলোর বিষয়ে কথা বলার জন্য সাধারণত ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ ব্যবহার করেন।
বিবিসি সংবাদদাতা ডেবুসম্যান জুনিয়রের কথায়, “অন্তত জনসমক্ষে তিনি একজন শান্ত ব্যক্তি, মাপ-ঝোপ করে চুক্তি করতে পারে এমন ভাবমূর্তিই বজায় রাখতে পছন্দ করেন। আমি যতবারই তাকে গণমাধ্যমের সামনে কোনো কোথায় বাধা দিতে কমই দেখেছি এবং দেখে থাকলেও সাংবাদিকদের ‘বোকা’ বা ‘হাস্যকর’ প্রশ্নের কারণেই তিনি তা করেছেন।”
“হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে বিশ্বের ক্যামেরার সামনে তার অশ্লীল ভাষা ব্যবহার সম্ভবত এই ইঙ্গিতই দেয় যে তিনি দুই যুদ্ধরত পক্ষের প্রতি কতটা হতাশ বোধ করছেন। আপাতত ইসরায়েল তার ক্রোধের তীব্রতার মুখোমুখি হচ্ছে,” ব্যাখ্যা করেছেন মি. ডেবুসম্যান।
“ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি গাজা এবং ইউক্রেনসহ সব সংঘাতের অবসান ঘটাবেন। একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা তাকে রুয়ান্ডা এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মধ্যে এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের অবসানের কৃতিত্ব দাবি করতে দেখেছি। তবে, সেই সংঘাতগুলো বেশিরভাগ আমেরিকানের মন থেকে অনেক দূরে ছিল।”
ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতের প্রসঙ্গটি একটু অন্যরকম।
মি. ডেবুসম্যান ব্যাখ্যা করেছেন, “প্রশাসনের দৃষ্টিতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়ে থাকলে বা যদি হয়- তাহলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতিগত অর্জন হিসাবে বিবেচিত হতো। পাশাপাশী এটি একটি উল্লেখযোগ্য বিজয়ের দিকে ইঙ্গিত করতেও সাহায্য করত। বিশেষত, যদি মার্কিন বোমারু বিমানের সাহায্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান ঘটানো যায়।”
“গত রাতেই আমরা হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকে কিছু ব্যক্তিত্বকে ট্রাম্পের শান্তি স্থাপনের-এর উচ্চস্বরে প্রশংসা করতে দেখেছি। কিন্তু আপাতত, তেমনটি হচ্ছে না বলে তিনি হতাশ এবং ক্ষুব্ধ বলে মনে হচ্ছে।”