ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ২৮ জুন— ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে ‘উল্লেখযোগ্য ও মারাত্মক ক্ষতি’ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
আরাগচি জানান, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে। তবে এর আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই দাবি করেছিলেন, এই হামলা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে ব্যাহত করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে। কিন্তু খামেনেই সেই দাবিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এই হামলা কোনো বাস্তব অর্জন আনতে পারেনি এবং ইরান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে।
তবে আরাগচির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বাস্তবে ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি। তিনি আরও জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের আগ্রাসনের পরই ইরান ষষ্ঠ দফার আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, “ইরানি জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় আমাদের কূটনৈতিক পন্থা নতুন আকার নিচ্ছে।” তবে নতুন এই কূটনৈতিক রূপ কী হতে পারে, তা ব্যাখ্যা করেননি তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও রুদ্ধ তহবিল মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে বুধবার ইরানের পার্লামেন্ট আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধে একটি বিল পাস করেছে।
এই বিল কার্যকর হলে পরিদর্শকরা আর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে প্রবেশাধিকার পাবেন না।
ইসরায়েল দাবি করছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও ইরান বারবার বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইস্পাহান শহরে তিনটি স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “এই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কয়েক বছর পেছনে ঠেলে দিয়েছে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা প্রকৃতপক্ষে মাত্র কয়েক মাসের জন্য ইরানের কর্মসূচিকে স্থগিত করেছে।