ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ছবি: আল-জাজিরা
মেলবোর্ন, ২৮ জুন— আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি এনপিটি থেকে ইরানের বেরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো।
তিনি বলেছেন, তেহরান যদি এ ঐতিহাসিক অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ চুক্তি ত্যাগ করে, তবে তা হবে ‘সবচেয়ে খারাপ পরিণতি’।
রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৃহস্পতিবার মাঁখো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ইরান যেন আবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না ফিরে যায়। এ জন্য সবার মধ্যে মতৈক্য প্রয়োজন।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর পরপরই ইরানের কিছু রাজনীতিক এনপিটি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেন।
দেশটির সংসদে এনপিটির আওতায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিতের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
ইরানি সংসদের পররাষ্ট্র কমিটির চেয়ারম্যান আব্বাস গোলরু ২২ জুন জানান, “আমরা এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার আইনি অধিকার রাখি।”
একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ তিনটি স্থাপনায় হামলা চালায়।
এ নিয়ে মাঁখো বলেন, “এই পরিস্থিতিতে যদি ইরান এনপিটি থেকে বেরিয়ে যায়, তবে তা হবে এক ধরনের সমষ্টিগত দুর্বলতা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য বিপর্যয়কর।”
তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য – যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স – শিগগিরই আলোচনায় বসবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেহরানের সঙ্গে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক যোগাযোগ সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “ইরান যদি এনপিটি থেকে সরে দাঁড়ায়, তা হলে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।”
উল্লেখ্য, ইরান বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য, সামরিক উদ্দেশ্যে নয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এবার ইরান খোলাখুলি ভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে হাটতে পারে।